সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় দুর্নীতি: ৮ কর্মকর্তা কারাগারে
Led Bottom Ad

সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় দুর্নীতি: ৮ কর্মকর্তা কারাগারে

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

২৫/০১/২০২৬ ১৯:১৮:২৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

​সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুল আলোচিত নিয়োগ দুর্নীতি ও অনিয়মের মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুনশী আব্দুল মজিদ এ নির্দেশ দেন।

​দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান, উচ্চ আদালত থেকে প্রাপ্ত জামিনের মেয়াদ শেষে অভিযুক্ত ৮ কর্মকর্তা আজ মহানগর দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে পুনরায় জামিনের আবেদন করেন। আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

প্রকিউরমেন্ট অফিসার আব্দুল মুনিম, সেকশন অফিসার রিঙ্কু দাস, চৌধুরী রুম্মান আহমেদ, লোকমান আহমেদ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা সুরঞ্জিত রঞ্জন তালুকদার, রবিউল আলম বকুল, মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর রুহুল আমিন।

​২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠার পর ২০২৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) তদন্ত শুরু করে। তদন্তে তৎকালীন উপাচার্য ডা. মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. নঈমুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও নজিরবিহীন অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায়।

দুদকের অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে:

  • অবৈধ নিয়োগ: ইউজিসির অনুমোদন ও বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ২২০ জনকে অস্থায়ীভাবে (অ্যাডহক) নিয়োগ দেওয়া হয়।
  • আইন লঙ্ঘন: মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন লঙ্ঘন করে বারবার অ্যাডহক পদের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
  • যোগ্যতাহীন নিয়োগ: ৪৬ জনের বয়স না থাকলেও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং অভিজ্ঞতা ছাড়াই ১৮ জনকে পদায়ন করা হয়েছে। এমনকি তৃতীয় শ্রেণি প্রাপ্তদেরও গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
  • বেতন অনিয়ম: ইউজিসির অনুমোদনহীন ১৪১ জন অতিরিক্ত কর্মীকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন বাজেট থেকে বেআইনিভাবে বেতন-ভাতা প্রদান করা হয়েছে।

​গত বছরের ২০ এপ্রিল দুদকের সিলেটের সমন্বিত জেলা কার্যালয় তৎকালীন উপাচার্য ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারসহ মোট ৫৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেয়। এরপর ২৪ এপ্রিল আদালত সবার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এই মামলার অনেক আসামি ইতোমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

​দুদক সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এটি অন্যতম বড় নিয়োগ জালিয়াতির ঘটনা, যেখানে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে একটি সিন্ডিকেট বিশাল অংকের আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে এসব নিয়োগ সম্পন্ন করেছিল।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad