কমিটির দ্বন্দ্বে সংকটে তাহিরপুরের ঐতিহ্যবাহী অদ্বৈত মন্দির
Led Bottom Ad

কমিটির দ্বন্দ্বে সংকটে তাহিরপুরের ঐতিহ্যবাহী অদ্বৈত মন্দির

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

৩০/০১/২০২৬ ১১:০৮:২২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

​সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার রাজারগাঁওয়ে অবস্থিত দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় তীর্থস্থান শ্রী শ্রী অদ্বৈত মন্দির এখন চরম ঐতিহ্য সংকটে। পরিচালনা কমিটির নেতাদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের কোন্দল এখন মামলা-পাল্টা মামলা, অফিসের তালা ভাঙা এবং মন্দিরের দানবাক্স লুটতরাজের মতো মারমুখী পর্যায়ে পৌঁছেছে।

​গত ২৮ জানুয়ারি শ্রী শ্রী অদ্বৈত প্রভুর ৫৯০তম জন্মজয়ন্তী উৎসব শেষ হওয়ার পর এই দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হয়। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে মন্দিরের ক্যাশবাক্স ভাঙার ঘটনাকে ‘ডাকাতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক অদ্বৈত রায়। অন্যদিকে, বিরোধী পক্ষ দাবি করেছে—কীর্ত্তনের খরচ মেটাতে না পেরে তারা বাধ্য হয়ে দানবাক্স খুলেছেন।

বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক অদ্বৈত রায়ের মতে, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুলের নেতৃত্বে কমিটি দক্ষতার সাথে কাজ করছে। বর্তমান কমিটির মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বর পর্যন্ত। একটি কুচক্রী মহল আর্থিক সুবিধার লোভে জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে অবৈধভাবে কমিটি দখলের চেষ্টা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, কীর্ত্তন শেষে একটি পক্ষ মন্দিরের অফিস ও দানবাক্স ভেঙে টাকা লুট করেছে। মন্দির পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি মধুসুদন রায়ের দাবি, বর্তমান কমিটি কোনো আয়-ব্যয়ের হিসাব দিচ্ছে না এবং কৌশলে মেয়াদ বাড়িয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছে। তিনি অভিযোগ করেন, তাহিরপুরের এসিল্যান্ডের নির্দেশে গঠিত কীর্ত্তন কমিটিকে বর্তমান কমিটি কোনো সহযোগিতা করেনি, ফলে ঋণের টাকা পরিশোধে তারা দানবাক্স খুলতে বাধ্য হয়েছেন।

​তাহিরপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরুল আলম শান্তনু জানিয়েছেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে তিনি উভয় পক্ষকে নিয়ে বসেছিলেন, কিন্তু কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি হননি। ফলে এসিল্যান্ডের নেতৃত্বে একটি অস্থায়ী কমিটির মাধ্যমে এবারের কীর্ত্তন সম্পন্ন হয়। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মন্দিরের এই অচল অবস্থা নিরসনে একটি সাধারণ সভা আহ্বান করেছেন।

​এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফলে মন্দিরের প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান দৃষ্টিনন্দন কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এই তীর্থস্থানের পবিত্রতা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সাধারণ ভক্তরা।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad