হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন
অনৈতিক সম্পর্ক ও অর্থ আত্মসাতের জেরে সিলেটে গৃহশিক্ষক খুন
সিলেটের জালালাবাদ থানাধীন হাটখোলা ইউনিয়নের উমাইরগাঁওয়ে শোয়েবুর রহমান শিহাব (৩০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। পরকীয়া প্রেম, প্রায় ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং গৃহকর্ত্রীর মেয়ের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এ ঘটনায় খালেদা বেগম (৩২) ও আব্দুল মতিন (৪৫) নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার সিলেট মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার শাহপরাণ থানাধীন সোনারপাড়া থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গতকালই তাঁরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৩ সাল থেকে শিহাব প্রবাসী অধ্যুষিত ওই বাড়িতে গৃহশিক্ষক হিসেবে শিশুদের আরবি পড়াতেন। গৃহকর্ত্রী খালেদা বেগমের স্বামী প্রবাসে থাকায় তাঁদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সুযোগে শিহাব ওই পরিবার থেকে বিভিন্ন অজুহাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেন।
স্বীকারোক্তিতে গ্রেপ্তারকৃতরা জানান, শিহাব ভুক্তভোগী পরিবারকে পর্তুগাল ও লন্ডন নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এবং জমি ক্রয়ের নামে খালেদা বেগমের কাছ থেকে স্বর্ণালঙ্কার বিক্রির টাকাসহ প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন। বিদেশে নিতে ব্যর্থ হয়ে তিনি খালেদা ও তাঁর সন্তানদের নিয়ে সিলেটে একটি ভাড়া বাসায় ‘ভুয়া লন্ডন গমনের’ নাটক সাজান। একপর্যায়ে পাওনা টাকা ও লন্ডন যাওয়ার বিষয়ে চাপ দিলে শিহাব খালেদা বেগমের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। এমনকি খালেদার মেয়ের সঙ্গেও তিনি অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত হন।
পুলিশ জানায়, নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে ও প্রতিশোধ নিতে পরিকল্পনা অনুযায়ী শিহাবকে বাদেশ্বর নদীর পাড়ে কুড়াইল হাওড়ে নিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ বিবস্ত্র করে ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে রাখা হয়।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কুড়াইল হাওড় থেকে শিহাবের অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দেখে স্বজনরা তাঁকে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই সয়াইবুর রহমান জালালাবাদ থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দ্রুত তদন্ত চালিয়ে প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: