সুনামগঞ্জে ফসল রক্ষা বাঁধে অর্থ সংকট: কাজ শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা
Led Bottom Ad

সুনামগঞ্জে ফসল রক্ষা বাঁধে অর্থ সংকট: কাজ শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

০১/০২/২০২৬ ১৩:৩৬:৫০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

​সুনামগঞ্জের লাখো কৃষকের সারা বছরের অন্ন জোগান দেওয়া একমাত্র বোরো ফসল রক্ষায় এবার বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থ সংকট। কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী বাঁধ নির্মাণের সময়সীমা ঘনিয়ে এলেও অর্ধেকের বেশি কাজ বাকি থাকায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাওরপাড়ের কৃষকরা। বরাদ্দ ছাড় না হওয়ায় অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) চড়া সুদে ঋণ নিয়ে কাজ চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

​সংশোধিত কাবিটা নীতিমালা-২০২৩ অনুযায়ী, ১৫ ডিসেম্বর কাজ শুরু করে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। হাতে মাত্র চার সপ্তাহ সময় থাকলেও মাঠ পর্যায়ে কাজের গতি হতাশাজনক। স্থানীয়দের দাবি, অনেক স্থানে কাজের অগ্রগতি ২৫-৩০ শতাংশের বেশি নয়। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) দাবি করছে, জেলায় এ পর্যন্ত ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

​সুনামগঞ্জ পাউবো সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলার ১২টি উপজেলায় ৭১০টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৫৯৬ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণে ১৪৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে পিআইসি সভাপতিদের অভিযোগ, দেড় মাসে তাঁদের মাত্র ১৬ শতাংশ টাকা দেওয়া হয়েছে।

​তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরের ৭১ নম্বর পিআইসির সভাপতি সোহেল মিয়া বলেন, "টাকা না দিয়ে আমাদের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে। প্রথম কিস্তিতে মাত্র ১৬ শতাংশ টাকা পেয়েছি। শ্রমিকের মজুরি আর ভেকু ভাড়া দিতে পারছি না। আর ২-৩ দিন পর হয়তো কাজ বন্ধ করে দিতে হবে।" একই পরিস্থিতির কথা জানান জামালগঞ্জের শনির হাওর উপ-প্রকল্পের নজরুল ইসলামও। তিনি বলেন, ধারদেনা করে কাজ কতদিন চালানো যায়?

​এদিকে, পাউবোর এই ঢিলেমিকে উদ্দেশ্যমূলক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। হাওর রক্ষা ও নদী রক্ষা আন্দোলন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুল হক মিলন বলেন, "প্রশাসন ও পাউবো ইচ্ছে করে টাকা দিচ্ছে না যাতে কৃষকরা পিআইসির প্রতি আগ্রহ হারায়। তারা আসলে পুরনো ঠিকাদারি প্রথা ফিরিয়ে আনতে চায়। এছাড়া নির্বাচনের সুযোগ নিয়ে অপ্রয়োজনীয় অনেক প্রকল্পে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।"

​তবে সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেন, "শনিবার পর্যন্ত ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। প্রথম বিলে ১৬ শতাংশ টাকা দেওয়া হয়েছে এবং চলতি সপ্তাহে আরও ২৫ শতাংশ টাকা দেওয়া হবে। আশা করছি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।"

​উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে অকাল বন্যায় ব্যাপক ফসলহানির পর ঠিকাদারি প্রথা বাতিল করে পিআইসির মাধ্যমে কাজ শুরু হয়। কিন্তু গত দুই বছর ধরে সময়মতো অর্থ না পাওয়ায় বাঁধের কাজ পিছিয়ে যাচ্ছে, যা হাওরের ফসলের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad