প্রকৌশলী যখন ‘সই দেওয়ার যন্ত্র’: জগন্নাথপুরে বাঁধের নামে লুটপাটের মহোৎসব!
Led Bottom Ad

প্রকৌশলী যখন ‘সই দেওয়ার যন্ত্র’: জগন্নাথপুরে বাঁধের নামে লুটপাটের মহোৎসব!

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

০৭/০২/২০২৬ ১৭:৫৬:০৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত ‘নলোয়ার হাওর’ এখন চরম ঝুঁকির মুখে। চৈত্র মাসের পাহাড়ি ঢল আর অকাল বন্যার আশঙ্কায় যখন কৃষকদের চোখে ঘুম নেই, তখন সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে চলছে নজিরবিহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির মহোৎসব। অভিযোগের আঙুল সরাসরি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরকত উল্লাহর দিকে, যাঁর একক সিদ্ধান্ত ও স্বেচ্ছাচারিতায় কয়েক হাজার কৃষকের স্বপ্ন এখন বিপন্ন।

​সরেজমিনে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর চিত্র। নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) এক সদস্য অভিযোগ করেন, “ইউএনও সাহেব কারিগরি নির্দেশের তোয়াক্কা না করে নিজের পছন্দের লোক দিয়ে কমিটি গঠন করেছেন। আমাদের কেবল সই দেওয়ার যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।”

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নীতিমালা অনুযায়ী বাঁধের তদারকি ও বিলের চেক প্রদানের দায়িত্ব প্রকৌশলীদের হলেও নলোয়ার হাওরে চিত্র ভিন্ন। অভিযোগ উঠেছে, বাঁধের বিলের চেক প্রদানের মতো সংবেদনশীল কাজ প্রকৌশলীর বদলে ইউএনও’র ব্যক্তিগত কর্মচারী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। সরকারি আর্থিক বিধিমালার এমন প্রকাশ্য লঙ্ঘন নজিরবিহীন। তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী এখানে এক ‘অসহায় সাক্ষী’ ছাড়া আর কিছুই নন।

বাঁধের কাজের ভয়াবহ ধীরগতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি বরকত উল্লাহর বক্তব্যে চরম উদাসীনতা ফুটে ওঠে। তিনি বলেন, “কাজ চলমান আছে এবং প্রতিদিন পরিদর্শন করা হচ্ছে।” অথচ বাস্তব চিত্র বলছে, ১১ নম্বর বাঁধের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মাটির স্পর্শই লাগেনি। ৯ থেকে ১৩ নম্বর বাঁধের কাজও এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থমকে আছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিক মদদপুষ্ট ব্যক্তিদের পিআইসিতে সুযোগ করে দিয়েছেন ইউএনও। অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো বাঁধে নতুন মাটি না ফেলেই বিল উত্তোলনের প্রস্তুতি চলছে। বাঁধের উচ্চতা ও প্রশস্ততা প্রাক্কলন (এস্টিমেট) অনুযায়ী না হওয়ায় পুরো প্রকল্পই এখন ভেস্তে যাওয়ার মুখে।

নলোয়ার হাওর পাড়ের বিক্ষুব্ধ কৃষকরা জানিয়েছেন, ফসল তলিয়ে গেলে এর পূর্ণ দায়ভার প্রশাসনকেই নিতে হবে। ‘হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন’-এর নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মত কাজ শেষ না হলে রাজপথ অবরোধসহ কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

​পরিবেশবিদদের মতে, এটি কেবল একটি বাঁধের দুর্নীতি নয়, বরং গোটা জেলার খাদ্য নিরাপত্তার ওপর চরম আঘাত। জগন্নাথপুর উপজেলা প্রশাসনের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল আর অব্যবস্থাপনার কারণে নলোয়ার হাওরের হাজার হাজার পরিবার আজ নিঃস্ব হওয়ার পথে। সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad