সিলেটে ভোটকেন্দ্র দখলের প্রস্তুতির অভিযোগ বিএনপির
সিলেটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে একটি রাজনৈতিক দল ভোটকেন্দ্র দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। দলটির দাবি, নগরী ও সদর উপজেলার বেশ কিছু কেন্দ্রে সশস্ত্র মহড়া এবং বেআইনি প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে ভোটের ফলাফল নিজেদের পক্ষে নেওয়ার নীল নকশা করা হচ্ছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেট-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়। সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি যৌথভাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, “আমরা বিভিন্ন বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছি, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্র দখলের পরিকল্পনা করছে। ইতিমধ্যে তারা সদর ও মহানগর এলাকার বিভিন্ন কেন্দ্রে সশস্ত্র মহড়া দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। আমরা এসব ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছি।”
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অন্যান্য অভিযোগ:
* অপপ্রচার: বিএনপি প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
* আচরণবিধি লঙ্ঘন: নির্বাচনি প্রচারণায় শিশু-কিশোরদের ব্যবহার করা হচ্ছে এবং জনসভায় ধর্মীয় অনুভূতিকে উস্কানি দিয়ে ভোট চাওয়া হচ্ছে।
* ভোট কেনাবেচা: প্রতিপক্ষ দলের প্রার্থী বিপুল অর্থের বিনিময়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন বিএনপি নেতারা। তাঁরা জানান, এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট প্রমাণ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
* ভয়ভীতি প্রদর্শন: সাধারণ ভোটারদের কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং একটি মহল নির্বাচন বানচাল করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আব্দুল আহাদ খান জামালসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।
বিএনপি নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রশাসন যদি এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা না নেয় এবং ভোটের দিন কোনো ধরনের অনিয়ম হয়, তবে তার দায়ভার নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনকেই নিতে হবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: