হাওরে কৃষি বিপ্লবের হাতছানি: আসছে ঠান্ডাসহনশীল নতুন জাত ‘ব্রি ধান-১১৮’
Led Bottom Ad

হাওরে কৃষি বিপ্লবের হাতছানি: আসছে ঠান্ডাসহনশীল নতুন জাত ‘ব্রি ধান-১১৮’

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

০৮/০২/২০২৬ ১২:২৬:২১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

​হাওরাঞ্চলের চিরচেনা শত্রু ‘আকস্মিক বন্যা’ ও ‘ঠান্ডাজনিত ক্ষতি’ মোকাবিলায় এক যুগান্তকারী সাফল্য পেয়েছেন বাংলাদেশের কৃষিবিজ্ঞানীরা। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবন করেছে ঠান্ডাসহনশীল ও উচ্চফলনশীল নতুন বোরো জাত ‘ব্রি ধান-১১৮’। গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) কৃষি মন্ত্রণালয়ে জাতীয় বীজ বোর্ডের সভায় এই জাতসহ মোট ৬টি নতুন জাত অবমুক্ত করা হয়েছে।

যেভাবে এলো ব্রি ধান-১১৮:

জনপ্রিয় ব্রি ধান-২৮-এর সঙ্গে ভুটানের একটি ঠান্ডাসহনশীল জাতের সংকরায়ণ ঘটিয়ে এটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। গাজীপুর, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে টানা দুই বছর নিবিড় পরীক্ষার পর দেখা গেছে, এই জাতটি প্রতিকূল আবহাওয়ায় টিকে থাকতে সক্ষম।

হাওরের জন্য কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?

হাওরের প্রধান সমস্যা হলো—ফসল কাটার মৌসুমে আগাম বন্যা। এই বন্যা এড়াতে কৃষকরা আগেভাগে ধান রোপণ করলে প্রজনন পর্যায়ে ঠান্ডার কারণে ধান ‘চিটা’ হয়ে যায়। ব্রি ধান-১১৮ এই সমস্যার সমাধান দেবে।

  • ঠান্ডা সহনশীলতা: তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকলেও এই ধানের ক্ষতি হয় না।
  • স্বল্প জীবনকাল: এর গড় জীবনকাল ১৩৬-১৩৭ দিন, যা হাওরের বর্তমান জাতগুলোর তুলনায় কম। ফলে আগাম বন্যার আগেই ফসল ঘরে তোলা সম্ভব।
  • বাম্পার ফলন: এর গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৬.৭৭ টন, যা উপযুক্ত ব্যবস্থাপনায় ৮.৫ টন পর্যন্ত হতে পারে।

জাতের বৈশিষ্ট্য:

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ব্রি ধান-১১৮-এর চাল মাঝারি মোটা, ভাত ঝরঝরে এবং এতে প্রোটিনের পরিমাণ ৯.১ শতাংশ। ধানের গাছ পাকলেও এর ডিগপাতা সবুজ থাকে, যা একটি উন্নত জাতের লক্ষণ।

একনজরে নতুন আরও ৫ জাত:

জাতীয় বীজ বোর্ডের সভায় ব্রি ধান-১১৮ ছাড়াও আরও পাঁচটি জাত অবমুক্ত করা হয়েছে:

  1. ব্রি ধান-১১৫: বোরো মৌসুমের আধুনিক জাত।
  2. ব্রি ধান-১১৬: ব্রি ধান-৯২ এর বিকল্প উচ্চফলনশীল জাত (গড় ফলন ৮.৫৯ টন)।
  3. ব্রি ধান-১১৭: উন্নত বৈশিষ্ট্যের বোরো ধান।
  4. ব্রি হাইব্রিড ধান-৯: অধিক ফলনশীল হাইব্রিড জাত।
  5. ব্রি হাইব্রিড ধান-১০: বাণিজ্যিক চাষাবাদের উপযোগী।

​কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান জানান, নতুন এই জাতগুলো হাওরের ১৬ শতাংশ ধান উৎপাদনে বড় ভূমিকা রাখবে। ব্রির মহাপরিচালক মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান বলেন, “এই ৬টি নতুন জাতসহ ব্রির উদ্ভাবিত মোট জাতের সংখ্যা এখন ১২৭টি। ব্রি ধান-১১৮ চাষ শুরু হলে হাওরের কৃষকদের ঝুঁকি অনেক কমে আসবে।”

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad