সিলেট–১ আসনে ভোটের মাঠে এগিয়ে বিএনপি
জাতীয় রাজনীতিতে প্রতীকী গুরুত্বের কারণে সিলেট–১ আসন বরাবরই বিশেষ আলোচনায় থাকে। রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে—এই আসনে জয় পাওয়া মানে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে বাড়তি প্রভাব অর্জন। সেই কারণেই প্রতিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সিলেট সদর উপজেলা ও মহানগর এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসনকে ঘিরে বাড়তি আগ্রহ ও রাজনৈতিক তৎপরতা দেখা যায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বরং এবারের নির্বাচনে সিলেট–১ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আগের তুলনায় বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তাঁর বিপরীতে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে দাড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াতে ইসলামীর সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান।
মাঠপর্যায়ের প্রচারণা, দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা এবং ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগের দিক থেকে বর্তমানে বিএনপি তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটি বড় অংশ।
সিলেট–১ আসন রাজনৈতিক মর্যাদা ও ঐতিহ্যের দিক থেকেও ব্যতিক্রমী। ফলে প্রার্থী নির্বাচন ও প্রচারণার কৌশলে বড় দলগুলো বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছে। মাঠের রাজনীতিতে বিএনপি প্রার্থীর ধারাবাহিক উপস্থিতি ও দলীয় ঐক্যকে এগিয়ে থাকার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সিলেটের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। তাঁর পিতা খন্দকার আব্দুল মালিক ১৯৭৯, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সেই পারিবারিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা মুক্তাদিরের পক্ষে কাজ করছে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটারদের একাংশ।
২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পরাজিত হলেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোট পেয়েছিলেন। এরপরও তিনি মাঠে সক্রিয় থেকে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছেন। এবারের নির্বাচনে বড় সমাবেশের পাশাপাশি উঠান বৈঠক, পথসভা ও ছোট আকারের জনসংযোগমূলক কর্মসূচিতে জোর দিয়েছেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে সিলেটের রাজনীতি পর্যবেক্ষণকারী সাংবাদিক বদরুদ্দোজা বদর বলেন, “বিএনপির শক্ত অবস্থানের বড় কারণ দলীয় ঐক্য। মহানগর, সদর উপজেলা ও অঙ্গসংগঠনগুলো একই সুরে মাঠে কাজ করছে। অতীতে যে অভ্যন্তরীণ বিভাজন দেখা যেত, এবার তা চোখে পড়ছে না।”
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান সাংগঠনিকভাবে শক্ত অবস্থানে থাকলেও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগের ক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তিনি আগে সিলেট–৬ আসনকেন্দ্রিক রাজনীতিতে বেশি সক্রিয় ছিলেন। ফলে সিলেট সদর ও মহানগর এলাকায় তাঁর ব্যক্তিগত পরিচিতি তুলনামূলকভাবে সীমিত বলে মত স্থানীয়দের।
জামায়াতের প্রচারণা মূলত নগরকেন্দ্রিক এবং নির্দিষ্ট ভোটব্যাংকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তা থাকলেও মাঠপর্যায়ে ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা তৈরিতে তারা এখনো পিছিয়ে—এমনটাই বলছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।
সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, “এই নির্বাচনে সিলেট–১ আসনে বিএনপির পক্ষে জনসমর্থন তৈরি হয়েছে। নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে কাজ করছেন।”
বিএনপি প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “প্রতিদিন মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পাচ্ছি। তাঁদের প্রত্যাশা ও ক্ষোভ আমাদের সামনে আসছে। এই ভালোবাসাই আমাদের শক্তি।”
অন্যদিকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান বলেন, “আমরা আশাবাদী। দীর্ঘদিন ধরে মানুষের সঙ্গে আমার সম্পর্ক রয়েছে। ভোটের ফলেই সব স্পষ্ট হবে।”
তাহির আহমদ
মন্তব্য করুন: