জকিগঞ্জে ছয় হিন্দু পরিবারের খড়ের ঘরে আগুন, আতঙ্কে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়
Led Bottom Ad

জকিগঞ্জে ছয় হিন্দু পরিবারের খড়ের ঘরে আগুন, আতঙ্কে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়

নিজস্ব প্রতিনিধি, জকিগঞ্জ

১১/০২/২০২৬ ২১:৩০:১৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় পৃথক সময়ে ছয়টি হিন্দু পরিবারের খড়ের ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বলছে, রাতের আঁধারে কে বা কারা এসব আগুনের ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তারা নিশ্চিত নন। তবে ধারাবাহিকভাবে একই সম্প্রদায়ের পরিবারের খড়ের ঘরে আগুন লাগায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ছয়টি হিন্দু পরিবারের খড়ের ঘর (ফেইন) পুড়িয়ে দেওয়া হয়। আগুনে গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে সংরক্ষিত খড় সম্পূর্ণ বা আংশিক পুড়ে গেছে। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।


ক্ষতিগ্রস্ত এক ব্যক্তি বলেন, “রাতে আগুনের খবর পেয়ে বাইরে এসে দেখি খড়ের গাদায় আগুন জ্বলছে। আশপাশের লোকজন এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। আমরা খুব আতঙ্কের মধ্যে আছি।” তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি নাম প্রকাশ করতে চাননি।


এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা ধারণা করছেন, নির্বাচনকে ঘিরে সংখ্যালঘু ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি করতে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ মেলেনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।


আজ বুধবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জকিগঞ্জ উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের একটি প্রতিনিধি দল। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনাগুলোর তীব্র নিন্দা জানান।


উপজেলা ঐক্য পরিষদের নেতারা বলেন, “একই সম্প্রদায়ের একাধিক পরিবারের খড়ের ঘরে ধারাবাহিকভাবে আগুন লাগার ঘটনা উদ্বেগজনক। এতে সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।”


তারা আরও জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পরিবার মামলা করেনি। অনেকেই ভয় ও অনিশ্চয়তার কারণে আইনি পদক্ষেপ নিতে সাহস পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।


এ বিষয়ে জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনাগুলোর বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। কেউ গুজব ছড়ালে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


উপজেলার কয়েকজন সচেতন নাগরিক বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে যে কোনো ধরনের উসকানিমূলক বা ভীতি সৃষ্টিকারী ঘটনা প্রশাসনের কঠোরভাবে দমন করা উচিত, যাতে সব সম্প্রদায়ের মানুষ নির্ভয়ে বসবাস ও ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।


ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শনাক্ত করা না হলে এলাকায় আতঙ্ক আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad