৩৬ বছরে শাবিপ্রবি: গবেষণায় বিশ্বমঞ্চে পদচিহ্ন
পয়লা ফাল্গুনে ৩৫ বছর পেরিয়ে ৩৬–এ পা রাখল সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি)। ১৯৯১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৩ জন শিক্ষক, তিনটি বিভাগ ও ২০৫ শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করা বিশ্ববিদ্যালয়টি এখন সাত অনুষদের অধীনে ২৮টি বিভাগ ও দুটি ইনস্টিটিউট নিয়ে পূর্ণাঙ্গ এক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থী ১২ হাজারের বেশি; শিক্ষক সাত শতাধিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ছয় শতাধিক।
অর্জনের ধারাবাহিকতা
তিন দশকের বেশি সময়ে শিক্ষা ও গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের গণ্ডি ছাড়িয়েছে। ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড পুরস্কার–১৭’, ২০১৮ সালে ‘নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ’-এ ‘বেস্ট ডাটা ইউটিলাইজেশন’ বিভাগে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া এবং ‘ডিজিটাল ক্যাম্পাস অ্যাওয়ার্ড–২০’—অর্জনের তালিকায় রয়েছে এমন স্বীকৃতি।
শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে দেশের প্রথম বাংলা সার্চ ইঞ্জিন ‘পিপীলিকা’, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ‘একুশে বাংলা কিবোর্ড’, চালকবিহীন ড্রোন, কথা বলা রোবট ‘রিবো’, হাঁটতে সক্ষম রোবট ‘লি’ এবং ক্যানসার নির্ণয়ের নতুন পদ্ধতির মতো উদ্ভাবন এসেছে এই ক্যাম্পাস থেকেই।
স্মার্ট সেবায় এগিয়ে
ডিজিটাল রূপান্তরেও শাবিপ্রবি উল্লেখযোগ্য। মোবাইল ফোনে ভর্তি প্রক্রিয়া, ই-স্বাক্ষরযুক্ত সনদ, ই-পেমেন্টে ফি পরিশোধ, অনলাইন ক্লিয়ারেন্স ও ডি-নথি—প্রশাসনিক কাজে এসব সেবা চালু রয়েছে। ক্যাম্পাসজুড়ে অপটিক ফাইবার নেটওয়ার্ক, যানবাহনে ট্র্যাকিং ডিভাইস, আবাসিক হলে স্বয়ংক্রিয় প্রবেশব্যবস্থা, অনলাইনে পরিবহন ও গেস্ট হাউস বুকিংও যুক্ত হয়েছে সেবায়।
অবকাঠামো ও পরিকল্পনা
সাতটি একাডেমিক ভবনে পাঠদান চলছে। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য রয়েছে ছয়টি আবাসিক হল। আবাসনসংকট কাটাতে নির্মাণাধীন দুটি এক হাজার আসনবিশিষ্ট হল। পাশাপাশি চারটি ১০ তলা একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, শিক্ষকদের কোয়ার্টার, পিএইচডি ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ডরমিটরি এবং নিজস্ব পাওয়ার হাউস নির্মাণকাজ চলছে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণামুখী ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে ১৩টি নতুন বিভাগ ও একটি ইনস্টিটিউট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বসন্তের দিনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপনের মধ্য দিয়ে নতুন প্রত্যাশা নিয়ে এগোচ্ছে শাবিপ্রবি—শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে আরও এক ধাপ সামনে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: