সিলেট ৬ আসন
ভোটে হেরেও ৫৬ বছরের রেকর্ড ভেঙে জামায়াতের চমক
সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরী। তবে নির্বাচনে হারলেও এই আসনে ৫৬ বছরের ব্যর্থতার বলয় ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েছে জামায়াতে ইসলামী। ১৯৭০ সালের পর থেকে যেসব কেন্দ্রে জামায়াত কখনও সুবিধা করতে পারেনি, এবার সেসব কেন্দ্রসহ মোট ৬৮টি কেন্দ্রে জয়লাভ করেছেন দলটির প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
বিজয়ী এমরান আহমদ চৌধুরী (বিএনপি)–১,০৯,০৯১ ভোট (পোস্টালসহ), নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন (জামায়াত)–১,০১,৫৬৯ ভোট (পোস্টালসহ)। ভোটের ব্যবধান: ৭,৫২২ ভোট।
আসনটিতে মোট ২ লাখ ৪৩ হাজার ৬৯৬টি ভোট পড়েছে। জামানত রক্ষায় ৩০ হাজার ৪৬২টি ভোটের প্রয়োজন থাকলেও ব্যর্থ হয়েছেন অন্য তিন প্রার্থী। মাওলানা ফখরুল ইসলাম (স্বতন্ত্র) – ২৩,৮৪৬ ভোট, জাহিদুর রহমান (গণঅধিকার পরিষদ) – ১,৩৮৬ ভোট এবং মোহাম্মদ আব্দুল নূর (জাতীয় পার্টি) – ১,১৭০ ভোট।
সিলেট-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এই প্রথম বারের মতো এক লাখের বেশি ভোট পেয়েছেন। ১৯৯১ সালে দলটির প্রার্থী পেয়েছিলেন ১৫ হাজার ভোট, যা ২০০৮ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৫১ হাজার ৯৭৪-এ। এবার তা দ্বিগুণ হয়ে এক লাখ ছাড়িয়েছে। বিশেষ করে বিয়ানীবাজারের মাথিউরা ও মুড়িয়া ইউনিয়নের মতো আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কেন্দ্রগুলোতেও এবার দাঁড়িপাল্লা জয়ী হয়েছে। বিয়ানীবাজার উপজেলায় সেলিম উদ্দিন ধানের শীষের চেয়ে ৪ হাজার ৭ ভোট বেশি পেয়েছেন।
বিয়ানীবাজারে জামায়াত এগিয়ে থাকলেও গোলাপগঞ্জ উপজেলায় বিশাল ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেন এমরান আহমদ চৌধুরী। গোলাপগঞ্জের ১০৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭৪টিতেই জয় পায় ধানের শীষ। এই উপজেলায় এমরান চৌধুরী সেলিম উদ্দিনের চেয়ে ১৪ হাজার ৮৭১ ভোট বেশি পান, যা শেষ পর্যন্ত তার জয়ের পাল্লা ভারী করে।
আওয়ামী লীগবিহীন এই নির্বাচনে মূলত বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই হয়েছে। স্থানীয় জামায়াত নেতাদের মতে, বিয়ানীবাজারে প্রত্যাশা অনুযায়ী লিড না পাওয়া এবং আওয়ামী লীগের ভোটারদের একটি বড় অংশ বিএনপির পক্ষে ভোট দেওয়ায় তাদের পরাজয় হয়েছে। অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধ বিএনপি দীর্ঘ ২৯ বছর পর আওয়ামী লীগের এই দুর্গে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করল।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: