ইতিহাস ও প্রশান্তির অনন্য স্মারক
কালের সাক্ষী জকিগঞ্জের তিনশ বছরের পুরোনো সাজিদ রাজার মসজিদ
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার আটগ্রাম এলাকায় অবস্থিত জমিদার সাজিদ রাজার বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে থাকা তিনশ বছরের পুরোনো মসজিদটি ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা ও ধর্মীয় আবেগের এক জীবন্ত স্মারক হয়ে আজও টিকে আছে। প্রায় ৮ একর জায়গাজুড়ে থাকা শান্ত পুকুরের পাড়ে পিলার ও গম্বুজে সাজানো প্রাচীন এই মসজিদটির প্রতিচ্ছবি ভোরের আলো কিংবা বিকেলের সোনালি রোদে স্বচ্ছ পানিতে ভেসে ওঠে, যা এক অপার্থিব দৃশ্যের অবতারণা করে।
সপ্তদশ শতকের শুরুতে প্রভাব বিস্তারকারী জমিদার সাজিদ রাজা ১৭৪০ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর বাড়ির সামনে নামাজ আদায়ের সুবিধার্থে দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। প্রায় ১৫ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা তাঁর রাজবাড়ির ভেতরে ব্রিটিশ আমলে কলকাতার মিস্ত্রিদের হাতে নির্মিত তেরোচালার একটি অনন্য টিনের ঘরও আজও অতীতের গল্প বলে যায়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মসজিদটি গ্রামের মানুষের হৃদয়ের কেন্দ্র হয়ে আছে এবং আজও এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা হয়। পুরোনো দেওয়াল ও খোলা পরিবেশের কারণে গরমের দিনেও বৈদ্যুতিক পাখার প্রয়োজন হয় না, প্রকৃতির নিজস্ব শীতলতায় ইবাদতে নিমগ্ন মানুষ আলাদা প্রশান্তি পান। মসজিদের সামনে খনন করা বিশাল পুকুরের পানি আজও আশপাশের মানুষ ব্যবহার করছেন, যার শান্ত জলে মসজিদের প্রতিচ্ছবি যেন সময়ের গভীর থেকে উঠে আসা এক নীরব দোয়ার মতো ভেসে থাকে।
সাজিদ রাজার বংশধর এবং সিলেটের মতিন উদ্দিন আহমদ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা মোস্তাফা শাহ জামান জানান, তিন শতাধিক বছরের পুরোনো এ স্থাপনাটি শুধু ইতিহাস নয়—এ অঞ্চলের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: