জলাবদ্ধতায় অতিষ্ঠ জনজীবন
ছাতকে অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় চরম ভোগান্তি
সুনামগঞ্জের ছাতক পৌরসভায় অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও বর্জ্য অপসারণের সীমাবদ্ধতায় দীর্ঘস্থায়ী ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভায় প্রায় ২৯ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো আধুনিক ও কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় সামান্য বৃষ্টিতেই কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি পর্যন্ত বৃষ্টির ময়লা পানি ও আবর্জনা ছড়িয়ে পড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে চর্মরোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অধিকাংশ ড্রেন অত্যন্ত সরু এবং নিয়মিত পরিষ্কার না করায় সামান্য বর্ষণেই উপচে পড়া নোংরা পানি ঘরের আঙিনায় ঢুকে পড়ছে। বিশেষ করে শাহজালাল আবাসিক এলাকা ও বাগবাড়ি মহল্লায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে; যেখানে ড্রেনের জ্যাম ও পচা পানির গন্ধে দিনের বেলায়ও মশার উপদ্রবে কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের ড্রেনগুলোর ভেতরে পলিথিন, প্লাস্টিক বোতল ও নির্মাণ সামগ্রী জমে পানি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে আছে।
পৌর পরিচ্ছন্নতা বিভাগ জানায়, প্রায় ৫০ হাজার মানুষের এই শহরে মাত্র ২৮ জন কর্মী দিয়ে ৯টি ওয়ার্ডের বর্জ্য অপসারণ ও ড্রেন পরিষ্কারের কাজ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এছাড়া ময়লা বহনের বেশ কিছু যানবাহন বিকল থাকায় ডাস্টবিনগুলো উপচে আবর্জনা রাস্তায় পড়ছে।
পৌরসভার প্রকৌশলী মো. আব্দুল মালেক জনবল সংকটের কথা স্বীকার করে জানান, সাধ্যমতো পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
তবে ছাতক পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডিপ্লোমেসি চাকমা আশার বাণী শুনিয়ে বলেন, শাহজালাল আবাসিক এলাকার প্রবেশমুখের ড্রেনটি নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে এবং ঠিকাদারের সাথে কথা বলে দ্রুত কাজ শেষ করার কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোগান্তি নিরসনে পৌরবাসী দ্রুত ড্রেন সংস্কার ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: