দোয়ারাবাজারে তলিয়ে গেছে হাওর: দিশেহারা হাজারো কৃষক
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার নাইন্দার হাওর, কাংলার হাওর, দেখার হাওর ও কনস্কাই বিলসহ ছোট-বড় অধিকাংশ হাওরের বোরো ধান টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, আকস্মিক পানি বৃদ্ধিতে বিস্তীর্ণ হাওরজুড়ে এখন শুধুই থৈ থৈ পানি। পাকা ধান চোখের সামনে তলিয়ে যাওয়ায় বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল হাজারো কৃষক এখন চরম বিপাকে পড়েছেন।
হাওর ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও ধানের শীষ পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে গেছে, আবার কোথাও আংশিক ভেসে আছে। অনেক কৃষককে নিরুপায় হয়ে কোমরসমান পানিতে নেমে আধপাকা ধান কাটতে দেখা গেছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ায় যা-ও কাটা সম্ভব হচ্ছে, রোদের অভাবে তা শুকানো যাচ্ছে না। ফলে সংগৃহীত ধান পচে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। স্থানীয় কৃষক আব্দুল করিম আক্ষেপ করে বলেন, ঋণ করে চাষ করা এই ধানই ছিল সারা বছরের অন্ন জোগানোর একমাত্র অবলম্বন, কিন্তু অকাল বন্যায় সব শেষ হয়ে গেল।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অরূপ রতন সিংহ জানিয়েছেন, বৈরী আবহাওয়া ও বজ্রপাতের আতঙ্ক ধান কাটার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আশরাফুল ইসলাম জানান, কৃষকদের আগেই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল, তবে আকস্মিক ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে। বর্তমানে হাওরাঞ্চলের ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তালিকা তৈরির কাজ চলছে।
সোনালি ফসলের স্বপ্ন ভেঙে এখন হাওরপাড়ে বইছে বিষাদের সুর। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, সরকারিভাবে দ্রুত বিশেষ সহায়তা বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা না হলে এই বিশাল আর্থিক ক্ষতি সামাল দেওয়া তাঁদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়বে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: