কালবৈশাখীর তাণ্ডবে শাল্লায় তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই: অচল জনজীবন
কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলা সদরের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) থেকে আজ বুধবার পর্যন্ত টানা তিন দিন ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় কাটছে উপজেলাবাসীর দিনরাত। এর ফলে উপজেলা সদরের দুই হাজারেরও বেশি গ্রাহক চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এবং স্থবির হয়ে পড়েছে সরকারি-বেসরকারি দাপ্তরিক কাজসহ স্বাভাবিক জনজীবন।
জানা গেছে, সোমবার বিকেলে আঘাত হানা প্রবল ঝড়ে দিরাই-শাল্লা বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের দিরাই অংশে অন্তত ২০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে ও হেলে পড়ে। এতে মুহূর্তের মধ্যেই গোটা উপজেলা সদর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বর্তমানে শাল্লা সদরের ডুমরা ও ঘুঙ্গিয়ারগাঁওসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো অন্ধকারে নিমজ্জিত। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, ফলে বাইরের জগতের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। তীব্র গরমে মোমবাতির আলোয় পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছে তারা। গোবিন্দ চন্দ্র সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব মহিপাল দাস মিল্টন জানান, গরম ও অন্ধকারের কারণে শিক্ষার্থীরা অতিষ্ঠ। পরীক্ষা কেন্দ্রের সিসি ক্যামেরা সচল রাখতে জেনারেটর ব্যবহার করা হলেও জ্বালানি তেলের সংকটে তাও চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিকে কম্পিউটার ও প্রিন্টিং ব্যবসায়ীরা গত তিন দিন ধরে কোনো কাজ করতে না পেরে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস পরিস্থিতির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জরুরি দাপ্তরিক কাজে প্রশাসনকে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, তবে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বর্ণনাতীত। সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিপি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাসেল আহমদ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত লাইনের মেরামত কাজ জোরেশোরে চলছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কাজে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে। মেরামত শেষ হলে আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: