বাঁধ ভেঙে হাজারো একর ফসল ডুবার শঙ্কা
কালনীর করাল গ্রাসে বিলীন হচ্ছে জনপদ
সুনামগঞ্জের শাল্লা ও হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এক সময়ের শান্ত কালনী নদী এখন দুই তীরের মানুষের জন্য মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সর্বনাশী ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ১৫-১৬টি গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দা। প্রতিদিন নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ভিটেমাটি, ফসলি জমি আর পৈত্রিক আঙিনা। বিশেষ করে শাল্লা উপজেলার সাউধেরশ্রী গ্রামের পাশের ফসল রক্ষা বাঁধটি এখন চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বাঁধটি ভেঙে কালনীর পেটে চলে যাবে হাজার হাজার একর জমির বোরো ফসল।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শাল্লার ফয়েজুল্লাহপুর, প্রতাপপুর, বিষ্ণুপুর ও গ্রাম শাল্লা এবং আজমিরীগঞ্জের বদলপুর ইউনিয়নের পিরোজপুর ও পাহাড়পুরসহ বেশ কিছু এলাকায় ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এরই মধ্যে শতাধিক পরিবারের বসতভিটা ও কয়েকশ একর জমি নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। সাউধেরশ্রী গ্রামের একমাত্র পাকা রাস্তাটির অর্ধেকের বেশি অংশ ইতিমধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
গ্রামবাসী আশিষ সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ঘরবাড়ি ও বাঁধ রক্ষায় আশ্বাস ছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ মেলেনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নামমাত্র কিছু বালুর বস্তা ফেললেও দুর্নীতির কারণে তা কোনো কাজে আসছে না। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহেলায় নিম্নমানের কাজ হয়েছে বলে তাদের দাবি।
শাল্লা উপজেলা পাউবো’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী ওবায়দুল হক জানান, সাউধেরশ্রী এলাকার ভাঙনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এটি দুই জেলার সীমানায় হওয়ায় সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলা অফিসের মধ্যে সমন্বয়ের চেষ্টা চলছে। তবে প্রশাসনের এই ধীরগতির আলোচনায় ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। নদী তীরের প্রায় ৫০০ পরিবার বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে যাওয়ার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, কেবল বালুর বস্তা বা সাময়িক প্রলেপ নয়, বরং ড্রেজিং ও স্থায়ী টেকসই বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে কালনী নদীর এই করাল গ্রাস থেকে জনপদ ও ফসল রক্ষা করা হোক।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: