ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে মধ্যনগর ও ধর্মপাশায় গণসমাবেশ
সুনামগঞ্জের হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় প্রশাসনের ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে হাওর অঞ্চল। ‘হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সুনামগঞ্জের মধ্যনগর ও ধর্মপাশা উপজেলায় পৃথক দুটি বিশাল গণ-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে বক্তারা অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণকে কৃষকের ‘মরণফাঁদ’ হিসেবে অভিহিত করে দায়ীদের দ্রুত অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় মধ্যনগর বাজারের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত সমাবেশে কৃষকরা অভিযোগ করেন, বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে বোয়ালা, কাইল্যানী ও শালদীঘাসহ বিভিন্ন হাওরের সোনালি ধান তলিয়ে গেছে। প্রশাসনের সহায়তা না পেয়ে নিরুপায় কৃষকরা নিজেদের খরচে পাম্প দিয়ে পানি সরানোর চেষ্টা করছেন। সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে 'হোহানির খাল' খনন এবং প্রয়োজনীয় স্থানে স্লুইস গেট নির্মাণের দাবি জানান। অন্যদিকে, বিকেল ৩টায় ধর্মপাশা উপজেলার প্রধান সড়কে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, সাতারিয়া পাতারিয়া ও টগার হাওরসহ বড় বড় হাওরগুলোতে পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) গঠন থেকেই দুর্নীতির মহোৎসব শুরু হয়েছিল।
সংগঠনের নেতারা বলেন, এটি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয় বরং প্রশাসনিক ও কারিগরি ব্যর্থতার ফল, যার কারণে আজ হাজার হাজার হেক্টর বোরো জমি পানির নিচে। সমাবেশে প্রধান অতিথি মো. রাজু আহমেদ ও ওবায়দুল মুন্সী পাউবো কর্মকর্তা ও সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় আনা এবং দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের অবিলম্বে জেলা থেকে অপসারণের দাবি জানান। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও পানি নিষ্কাশনে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সমাবেশে মধ্যনগর ও ধর্মপাশার বিভিন্ন ইউনিয়নের কয়েক হাজার কৃষক প্রতিনিধি ও স্থানীয় সুধীজন অংশগ্রহণ করে হাওর রক্ষার এই আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেন। বর্তমানে হাওরপাড়ের কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: