চার স্তরের শোষণে দিশেহারা নৌশ্রমিকরা
সুনামগঞ্জের যাদুকাটা নদী এখন চাঁদাবাজদের ‘স্বর্গরাজ্য’
সুনামগঞ্জের সীমান্ত নদী যাদুকাটা বর্তমানে এক সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রের কবলে পড়ে শোষণের করিডোরে পরিণত হয়েছে। সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে রয়্যালটি, বিআইডব্লিউটিএ ট্যাক্স, খাস কালেকশন ও টুল ট্যাক্সের নামে চারটি ভিন্ন স্তরে নৌশ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিআইডব্লিউটিএ-এর নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ঘনফুট বালু বা পাথরের ওপর ২৫ থেকে ৩০ পয়সা ট্যাক্স আদায়ের কথা থাকলেও বাস্তবে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে, যা নির্ধারিত হারের চেয়ে প্রায় ৫ থেকে ৬ গুণ বেশি।
ভুক্তভোগী নৌশ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন, অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকার করলে নৌকা আটকে রাখা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। গত ১০ মার্চ বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে একজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি, বরং নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। এমনকি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও নৌকা মালিক মো. আবুল হোসেনের নৌকা ৪ এপ্রিল জামালগঞ্জের ফাজিলপুর ঘাটে আটকে রেখে মোটা অংকের টাকা দাবি করার ঘটনা এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে; পরবর্তীতে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির নির্দেশে ২০০০ টাকা রেখে নৌকা ছাড়ার বিষয়টি প্রকাশ্য চাঁদাবাজির এক নির্লজ্জ প্রমাণ হিসেবে সামনে এসেছে।
সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল এই পরিস্থিতির জন্য প্রশাসনের একাংশের পরোক্ষ মদদকে দায়ী করে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইজারাদার জবা মিয়া ও মো. জাকেরীনসহ সংশ্লিষ্ট চক্রের বিরুদ্ধে গত ৩০ মার্চ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
নৌশ্রমিক সংগঠনের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, দ্রুত এই অবৈধ ও দ্বৈত টোল আদায় বন্ধ না হলে তারা সারা দেশে বালু ও পাথর পরিবহন বন্ধ করে দিয়ে কঠোর নৌ-ধর্মঘটে যেতে বাধ্য হবেন, যা জাতীয় পর্যায়ে নির্মাণ সামগ্রীর বাজারে বড় ধরণের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: