ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম
পাউবো ও প্রশাসনের দুর্নীতির প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে গণ-সমাবেশ
সুনামগঞ্জে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি, পিআইসি গঠনে অনিয়ম এবং অপরিকল্পিত বাঁধের কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় হাজার হাজার হেক্টর ফসলহানির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজপথ। বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের ইছাঘড়ি বাজারে ‘হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন’ সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির উদ্যোগে এক বিশাল গণ-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এই সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, দেখার হাওরের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ফসল রক্ষার নামে মূলত লুটপাটের মহোৎসব চলছে। কৃষকরা ঋণ করে হাড়ভাঙা খাটুনিতে ফসল ফলালেও পাউবো ও প্রশাসনের চরম অব্যবস্থাপনায় আজ তারা নিঃস্ব হওয়ার পথে। বাঁধ নির্মাণে প্রাক্কলন থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে অনিয়ম এখন ‘ওপেন সিক্রেট’ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।
হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের জেলা কমিটির সহ-সভাপতি ওবায়দুল মুন্সীর সভাপতিত্বে এবং জেলা সাধারণ সম্পাদক মোঃ ওবায়দুল হক মিলনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তারা জানান, অপ্রয়োজনীয় ও অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণের ফলে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে এবং বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার হেক্টর বোরো জমি। পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) গঠনে প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে প্রভাবশালীদের পকেট কমিটি করার ফলে কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমুখী হয়েছে।
সমাবেশে দেখার হাওরের ভুক্তভোগী কৃষক আব্দুল হামিদ, আব্দুর নূর ও হাবিবুর রহমানসহ স্থানীয় কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা কমিটির সভাপতি মো. রাজু আহমেদ হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা হাওর নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, তাদের দ্রুত অপসারণ করতে হবে এবং দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত এই আন্দোলন থামবে না। সমাবেশ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ প্রদান, সদর উপজেলার সকল খাল ও নদী পুনঃখনন, প্রয়োজনীয় স্থানে সুইচ গেট নির্মাণ এবং দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।
সমাবেশে জেলা কমিটির সদস্য মতিউর রহমান, পৌর কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক প্রদীপ পাল ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নূর ইসলাম মেম্বারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। গণ-সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল স্থানীয় এলাকা প্রদক্ষিণ করে এবং কৃষকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে স্লোগানে মুখরিত হয় পুরো জনপদ। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই আন্দোলন আরও বেগবান হতে পারে। বর্তমানে হাওরপাড়ের কৃষকদের মধ্যে তীব্র উৎকণ্ঠা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: