কৃষকদের আর্তনাদ
সুনামগঞ্জে দেখার হাওরে বাঁধ ভেঙে ফসলহানি
সুনামগঞ্জের অন্যতম প্রধান বোরো ভাণ্ডার ‘দেখার হাওর’ এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) ভোরে ‘গুজাউনি’ বাঁধ ভেঙে প্রবল বেগে পানি ঢুকতে শুরু করায় তলিয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার কৃষকের সারা বছরের স্বপ্ন। প্রশাসনের অব্যবস্থাপনা আর সময়মতো বাঁধ সংস্কার না করার অভিযোগে হাওরজুড়ে এখন তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। একদিকে পানির সঙ্গে লড়াই, অন্যদিকে ফসলের মৃত্যু দেখে ক্ষোভে ফুঁসছেন কয়েক হাজার কৃষক।
শনিবার ভোর থেকে বড়দই বিলের পানির চাপে গুজাউনি অংশের বাঁধটি ভেঙে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে হাওরের নিচু এলাকার আধপাকা সোনালি ধান তলিয়ে যায়। স্থানীয় কৃষকরা লাঠি, কোদাল ও বালুর বস্তা নিয়ে বাঁধ মেরামতের আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও প্রবল স্রোতের সামনে তা ব্যর্থ হয়। চোখের সামনে বছরের একমাত্র ফসল তলিয়ে যেতে দেখে অনেক কৃষককে হাওরের আইলে বসে হাউমাউ করে কাঁদতে দেখা গেছে। কৃষকদের অভিযোগ, বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও তদারকির অভাবেই আজ এই বিপর্যয় নেমে এসেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং উঁচুর দিকের অবশিষ্ট ফসলটুকু বাঁচাতে এখন আসামপুর ও উথারিয়া ফসল রক্ষা বাঁধটি কেটে দেওয়ার দাবি তুলেছেন বিক্ষুব্ধ কৃষকরা। তাঁদের দাবি, এই বাঁধটি কেটে দিলে হাওরের ভেতরে জমা হওয়া পানি দ্রুত বের হয়ে যাবে, যা অন্তত কিছু ধান রক্ষা করতে সাহায্য করবে। এক আর্তনাদকারী কৃষক বলেন, “এখনই উথারিয়া বাঁধ না কাটা হলে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে। প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে আমরা নিজেরাই বাঁধ কাটতে বাধ্য হব।”
কৃষকদের এই দাবির মুখে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত মেলেনি। শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ শাহজাহান মিয়াকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। অন্যদিকে, সুনামগঞ্জ পওর বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ইমদাদুল হক জানান, ভেঙে যাওয়া বাঁধটি মূলত ফসল রক্ষা বাঁধ ছিল না। তিনি বলেন, “উথারিয়া বাঁধটি কাটলে পরে আর মেরামত করা কঠিন হবে। জেলা বা উপজেলা কমিটি অনুমতি দিলেই কেবল কৃষকরা এটি কাটতে পারে।”
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত পানি নিষ্কাশন করা না হলে কয়েক হাজার হেক্টর জমির ধান পচে পুরো জেলায় তীব্র খাদ্যাভাব দেখা দিতে পারে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: