সুনামগঞ্জে হাজারো কৃষকের প্রাণান্তকর চেষ্টায় রক্ষা পেল দেখার হাওর
Led Bottom Ad

৯ হাজার হেক্টর জমির ফসল বাঁচল

সুনামগঞ্জে হাজারো কৃষকের প্রাণান্তকর চেষ্টায় রক্ষা পেল দেখার হাওর

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

১২/০৪/২০২৬ ১২:২৩:১১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের দেখার হাওরে হাজারো কৃষকের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় এক মহাবিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছে বোরো ধান। গতকাল শনিবার সকালে পানির তোড়ে গুজাউনি এলাকার একটি বাঁধ ভেঙে গেলে কৃষকদের চার ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস পরিশ্রমে তা পুনর্নিমাণ করা হয়। এর ফলে প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমির ফসল আপাতত ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা পেল।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেখার হাওরে সদর উপজেলা, শান্তিগঞ্জ, দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলার কৃষকদের প্রায় ২৪ হাজার ২১৪ হেক্টর আবাদি জমি রয়েছে। সম্প্রতি অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে হাওরের ঝাওয়া, শেয়ালমারা ও গুমরাসহ বেশ কিছু এলাকায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, জনবসতি থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গুজাউনি বাঁধে পানির স্রোত রুখতে বাঁশ, মাটি, বন ও বালুর বস্তা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন শত শত কৃষক। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাজারো কৃষক এতে যুক্ত হয়ে এক অভূতপূর্ব সংহতি গড়ে তোলেন।

কৃষকদের মতে, দেখার হাওরের 'উতারিয়া' বাঁধটি এখন তাদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত এই বাঁধের কারণেই বৃষ্টির পানি বের হতে পারছে না এবং দরিয়াবাজ অংশের ফসল তলিয়ে গেছে। হাওরসংলগ্ন মদনপুরের কৃষক আমিন উদ্দিন জানান, গুজাউনি বাঁধের ভাঙন ঠেকানো না গেলে জয়কলস, শান্তিগঞ্জ ও পশ্চিম পাগলা অংশের হাজার হাজার একর জমি মুহূর্তেই তলিয়ে যেত। সকাল সাড়ে ৯টায় বাঁধ ভেঙে পানি ঢোকা শুরু হলে কৃষকদের কান্না আর আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। অবশেষে দুপুর দেড়টার দিকে ভাঙন রোধ করা সম্ভব হলে কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফেরে।

হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি ইয়াকুব বখ্‌ত বহলুল জলাবদ্ধতা সৃষ্টিকারী বাঁধগুলোর উপযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অন্যদিকে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া জানান, ভেঙে যাওয়া বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্ধারিত প্রকল্পের আওতায় ছিল না। কৃষকদের পক্ষ থেকে আগে থেকে কোনো তথ্য না পাওয়ায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে জলাবদ্ধতা দূর করতে বিভিন্ন স্থানে বাঁধ কাটার খবর পাওয়া যাচ্ছে এবং প্রশাসন বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। বর্তমানে বাঁধ রক্ষা পেলেও জলাবদ্ধতার পানি নিয়ে কৃষকদের উদ্বেগ এখনো কাটেনি।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad