তাহিরপুরে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে ৩৬ কোটি টাকার ফ্লাড ফিউজ প্রকল্পের কাজ
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বুনোয়ার হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫২ মিটার দীর্ঘ ফ্লাড ফিউজ (মিনি স্লুইস গেট) নির্মাণ কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে পালই ও বুনোয়াসহ ৬টি হাওরের জলাবদ্ধতা দূর হবে, যার সুফল পাবেন ৮ থেকে ৯টি গ্রামের কয়েক হাজার কৃষক।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের মে মাসে সিলেটের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এই প্রকল্পের কার্যাদেশ দেওয়া হলেও হাওরে অতিরিক্ত পানি থাকায় শুরুতে কাজ বিলম্বিত হয়। বর্তমানে হেমন্ত মৌসুমে কাজের গতি বাড়ানো হয়েছে এবং ব্লকের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রকল্পের অধীনে ১,৮৫০ মিটার এলাকায় আরমোরিং কাজের পাশাপাশি ৫২ মিটার প্রস্থ ও ৭ মিটার উচ্চতার এই মিনি স্লুইস গেটটি উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের খাজাপুরা নামক স্থানে নির্মিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে মাটি ভরাটের কাজ শেষ হলেও বৃষ্টির কারণে কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বর্তমানে জিও-ব্যাগ ও ব্লক বসানোর কাজ চলছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, এই প্রকল্পটি তাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। এটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে জমি চাষাবাদের উপযোগী হবে এবং কৃষি উৎপাদনে বিপ্লব ঘটবে। তবে তারা চৈত্র-বৈশাখ মাসের বৃষ্টির আগেই মূল কাজগুলো শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন, যাতে নির্মাণসামগ্রীর কোনো ক্ষতি না হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার জেবরুল জানান, প্রকল্পের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী বছরের মধ্যেই প্রকল্পটি উদ্বোধনের আশা করা যাচ্ছে।
তাহিরপুর উপজেলার উপ-প্রকৌশলী মনির হোসেন বলেন, "বুনোয়ার হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনে এই ফ্লাড ফিউজ প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। এটি সম্পন্ন হলে এলাকার কৃষকরা দীর্ঘমেয়াদী সুফল পাবেন এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।" বর্তমানে স্লুইস গেটের জন্য নালা খননের কাজ আংশিক চললেও বৃষ্টির কারণে সাময়িকভাবে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে, যা পানি কমলে পুনরায় শুরু হবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: