তাহিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৮ চিকিৎসকের পদ শূন্য: সেবা বঞ্চিত ৩ লাখ মানুষ
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলখ্যাত তাহিরপুর উপজেলার একমাত্র ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে চিকিৎসক ও জনবলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের প্রায় তিন লাখ মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসা এই হাসপাতালটিতে ২৪ জন চিকিৎসকের পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৬ জন। ফলে ১৮ জন চিকিৎসকের পদ শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে জরুরি ও সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গুরুত্বপূর্ণ ৮টি জুনিয়র কনসালটেন্ট পদের বিপরীতে মাত্র ১ জন কর্মরত আছেন। বিশেষ করে মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি ও অ্যানেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ না থাকায় শিশু ও গর্ভবতী মায়েরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। ১৩টি মেডিকেল অফিসার পদের মধ্যে ১১টিই শূন্য। এছাড়া জরুরি বিভাগে ৮ জন ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসারের পদের একটিও পূরণ নেই। অ্যানেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ সুনামগঞ্জে সংযুক্তিতে থাকায় অপারেশন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। নার্স, মিডওয়াইফ এবং ল্যাব টেকনোলজিস্টের অধিকাংশ পদ শূন্য থাকায় রোগীদের বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক বা জেলা শহরে যেতে হচ্ছে।
চিকিৎসা নিতে আসা আসমা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এখানে একটু জটিল সমস্যা হলেই রেফার করে দেওয়া হয়। গর্ভবতী মায়েদের সিজারের প্রয়োজন হলে জেলা শহর বা সিলেটে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকে না।"
তাহিরপুর সদর ইউপি চেয়ারম্যান জুনাব আলী বলেন, হাসপাতালের পরিবেশ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়া সত্ত্বেও চিকিৎসকরা কেন এখানে থাকতে চান না তা বোধগম্য নয়। তিনি দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগের দাবি জানান।
তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নওশাদ আহমেদ জানান, সীমিত জনবল দিয়ে সেবা দিতে তাঁরা হিমশিম খাচ্ছেন এবং শূন্য পদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত অবহিত করা হচ্ছে।
সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন জসিম উদ্দিন বলেন, বারবার চাহিদা পাঠিয়েও চিকিৎসক পাওয়া যাচ্ছে না, কারণ অনেকেই এই এলাকায় আসতে চান না।
তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আলোচনা করেছেন এবং দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণের মাধ্যমে স্থানীয়দের ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: