শাল্লায় শ্রমিক সংকট : পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক
Led Bottom Ad

শাল্লায় শ্রমিক সংকট : পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

নিশিকান্ত সরকার, শাল্লা

১৯/০৪/২০২৬ ১৮:৩৯:৫৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলা-এ চলতি বোরো মৌসুমে পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। অকাল বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও তীব্র শ্রমিক সংকট—এই তিন সমস্যার প্রভাবে হাওর অঞ্চলের কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন।


উপজেলার অধিকাংশ হাওরের ধান ইতোমধ্যে পেকে গেছে। তবে সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিপাতে অনেক হাওরে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, কোথাও জমি তলিয়ে গেছে। এতে হারভেস্টারসহ কোনো যন্ত্র ব্যবহার করা যাচ্ছে না।


তাজপুর গ্রামের কৃষক শান্তি মিয়া বলেন, আগে ধান কাটার মৌসুমে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকরা হাওরে আসতেন। কিন্তু যান্ত্রিক পদ্ধতির ব্যবহার বাড়ায় সেই প্রবণতা কমে গেছে। ফলে এখন শ্রমিক সংকট আরও বেড়েছে।


তিনি বলেন, পানির কারণে মেশিন ব্যবহার করা যাচ্ছে না, আবার শ্রমিকের চাহিদা বেশি থাকায় মজুরিও বেড়েছে। প্রতিজন শ্রমিককে তিন বেলা খাবারসহ প্রায় এক হাজার টাকা দিতে হচ্ছে।


ছায়ার হাওরের কৃষক বাছেদ মিয়া জানান, তাঁর প্রায় ১০ কেয়ার জমির ধান পেকে গেছে। কিন্তু জমিতে পানি থাকায় মেশিন নামানো যাচ্ছে না, শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না। এতে পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।


সুলতানপুর গ্রামের কৃষক বাবুল মিয়া বলেন, রোদ না থাকায় ধান শুকানোরও সুযোগ নেই। শ্রমিক সংকটের কারণে পরিবার-পরিজন নিয়ে কাজ করেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।


এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শুভজিৎ রায় বলেন, মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যেখানে যন্ত্র ব্যবহার সম্ভব নয়, সেখানে বিকল্পভাবে শ্রমিক ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, হাওরের পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং কৃষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে হাওর অঞ্চলের কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad
Led Bottom Ad