এক মণ ধানেও মিলছে না শ্রমিকের মজুরি
Led Bottom Ad

শ্রমিক সংকট ও অতিবৃষ্টিতে দিশেহারা কৃষক

এক মণ ধানেও মিলছে না শ্রমিকের মজুরি

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

০৪/০৫/২০২৬ ২১:০৭:৪৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকিতে পাহাড়ি ঢল আর অতিবৃষ্টির তান্ডবে বোরো ফসল নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কয়েক হাজার কৃষক। একে তো আধাপাকা ধান পানির নিচে, তার ওপর গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো দেখা দিয়েছে তীব্র শ্রমিক সংকট। দ্বিগুণ মজুরি দিয়েও মিলছে না ধান কাটার লোক। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বর্তমান বাজারে এক মণ ধান বিক্রি করেও একজন শ্রমিকের একদিনের মজুরি মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।

সরেজমিনে হাকালুকি হাওর তীরের মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভূকশিমইল, জয়চণ্ডী ও কাদিপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা নৌকা ও কলাগাছের ভেলায় করে পানির নিচ থেকে ধান সংগ্রহের প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। অনেক কৃষক সংগৃহীত ধান সড়কের পাশে স্তূপ করে রেখেছেন, কিন্তু টানা বৃষ্টি আর রোদের অভাবে সেই ধানে পচন ধরে অঙ্কুরোদ্গম হতে শুরু করেছে। কৃষকরা জানান, বর্তমানে খোলা বাজারে বোরো ধান প্রতি মণ ৯০০–১০০০ টাকায় বিক্রি হলেও একেকজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ১০০০ টাকার উপরে। এছাড়া এক বিঘা জমির ধান কেটে বাড়ি পর্যন্ত নিতে খরচ হচ্ছে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। আধুনিক কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটার সুযোগ থাকলেও জ্বালানি তেল সংকটের কারণে সময়মতো সেই সুবিধা পাননি বলে অভিযোগ অনেকের।

কুলাউড়া উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৮ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে, যার মধ্যে হাওর এলাকায় রয়েছে ৪ হাজার ৮০৫ হেক্টর। অতিবৃষ্টি ও ঢলের পানিতে ইতিমধ্যে ৩৮০ হেক্টর জমির ধান সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে প্রাথমিকভাবে প্রায় তিন হাজার কৃষক লোকসানের মুখে পড়েছেন। তবে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের দাবি, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ দাপ্তরিক হিসাবের চেয়ে আরও অনেক বেশি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ইতিমধ্যে হাওর এলাকায় ৮০ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট নিমজ্জিত ধান দ্রুত সংগ্রহের জন্য কৃষি বিভাগ ও প্রশাসন মাঠ পর্যায়ে তদারকি করছে। এদিকে, রোববার থেকে কুলাউড়ায় সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। ১৪৪০ টাকা মণ দরে সরকার ৮৩৫ টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যেখানে একজন কৃষক সর্বোচ্চ তিন টন ধান বিক্রি করতে পারবেন। তবে ফসলহারা ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের বাঁচাতে সরকারি বিশেষ পুনর্বাসন প্যাকেজ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad