লিবিয়ায় নবীগঞ্জের যুবককে জিম্মি করে ২৭ লাখ টাকা আদায়
Led Bottom Ad

আঙুল কেটে আবারও মুক্তিপণ দাবি

লিবিয়ায় নবীগঞ্জের যুবককে জিম্মি করে ২৭ লাখ টাকা আদায়

নিজস্ব প্রতিনিধি., নবীগঞ্জ

০৪/০৫/২০২৬ ২১:০৩:৩৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

ইতালি পাঠানোর কথা বলে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার রায়হান চৌধুরী (৩০) নামে এক যুবককে লিবিয়ায় জিম্মি করে ২৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে। বিপুল পরিমাণ টাকা দেওয়ার পরও রায়হানকে মুক্তি দেওয়া হয়নি; বরং আবারও ২৫ লাখ টাকা দাবি করে পৈশাচিক নির্যাতন চালিয়ে তাঁর হাতের আঙুল কেটে ফেলেছে চক্রটি। গত ৪২ দিন ধরে রায়হানের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে তাঁর পরিবার।

ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নবীগঞ্জ উপজেলার বেতাপুর গ্রামের আবু তাহের চৌধুরীর ছেলে রায়হানকে তাঁর সহপাঠী ও পরিচিত শামীম ও রাকিব ইতালি নেওয়ার প্রলোভন দেখায়। তাদের কথায় বিশ্বাস করে গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর ১০ লাখ টাকা এবং পরবর্তীতে আরও ২ লাখ টাকা প্রদান করে রায়হানের পরিবার। চক্রটি রায়হানকে ওমরাহ ভিসায় প্রথমে সৌদি আরব এবং পরে মিশর হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছানোর পর শামীম ও রাকিব তাঁকে জিম্মি করে শারীরিক নির্যাতন শুরু করে এবং বাংলাদেশে থাকা শামীমের বাবা নজরুল ইসলামের মাধ্যমে আরও ১৫ লাখ টাকা দাবি করে। ছেলের জীবন বাঁচাতে জমি ও স্বর্ণালংকার বিক্রি করে মোট ২৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা প্রদান করেন আবু তাহের চৌধুরী। কিন্তু টাকা পাওয়ার পর রায়হানের একটি আঙুল কেটে ভিডিও কলে দেখিয়ে আবারও ২৫ লাখ টাকা দাবি করে পাচারকারীরা। নির্দিষ্ট সময়ে টাকা না দিলে হাতের কবজি কেটে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়।

এই ঘটনায় দিশেহারা হয়ে আবু তাহের চৌধুরী বাদী হয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি নবীগঞ্জ থানায় মানবপাচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি নজরুল ইসলাম গতকাল আদালতে জামিন নিতে গেলে বিজ্ঞ আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। তবে মামলা করার পর থেকে পাচারকারী চক্রের অন্য সদস্যরা মামলা তুলে নিতে এবং নজরুলকে জামিনে মুক্ত করতে পরিবারটিকে ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগীর বাবা আবু তাহের চৌধুরী কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমি মামলা করে এখন চরম বিপাকে আছি। একদিকে ছেলের কোনো হদিস পাচ্ছি না, অন্যদিকে আসামিরা আমাকে হুমকি দিচ্ছে। আমার ছেলে কোথায়, কীভাবে আছে—আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না।” নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোনায়েম মিয়া জানিয়েছেন, মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য ইতিমধ্যে হবিগঞ্জ সিআইডিতে প্রেরণ করা হয়েছে। বর্তমানে সিআইডি বিষয়টি তদন্ত করছে এবং ভুক্তভোগীকে উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad