সিলেটের পাথর কোয়ারি খোলার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সভা ৭ মে
সিলেট অঞ্চলের দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনে এবং বন্ধ থাকা পাথর কোয়ারিগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে আগামী ৭ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ সভা আহ্বান করা হয়েছে। পরিবেশগত সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা এই কোয়ারিগুলো পুনরায় চালু করা সম্ভব কি না বা এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় কী হবে—তা এই সভায় পর্যালোচিত হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-১১ মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সরোয়ার স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে এই সভা আহ্বান করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০৮ নম্বর কক্ষে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
সভায় উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং সিলেট ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকদের।
উল্লেখ্য, উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় পরিবেশগত ঝুঁকি বিবেচনায় সিলেটের ভোলাগঞ্জ, জাফলং, বিছনাকান্দি ও শাহ আরেফিন টিলাসহ বিভিন্ন কোয়ারি থেকে পাথর ও বালু উত্তোলন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এর ফলে এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল লাখ লাখ শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ী চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দেওয়ায় ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশসম্মত উপায়ে কোয়ারি চালুর দাবি জানিয়ে আসছেন।
অন্যদিকে, পরিবেশবিদরা বরাবরই যন্ত্রের মাধ্যমে অনিয়ন্ত্রিত পাথর উত্তোলনের বিরোধিতা করে আসছেন। তাদের মতে, অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন পাহাড় ও নদী সংলগ্ন এলাকার প্রতিবেশ ব্যবস্থার অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।
এমন প্রেক্ষাপটে আসন্ন এই বৈঠককে ঘিরে কোয়ারিনির্ভর শ্রমজীবী মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, পরিবেশ রক্ষা এবং কর্মসংস্থান—এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় করে একটি টেকসই ও ইতিবাচক সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসবে এই সভা থেকে। সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে সিলেটের পাথর শিল্পের ভবিষ্যৎ।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: