তাহিরপুর শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নারী শিক্ষিকাকে হয়রানির অভিযোগ
Led Bottom Ad

তাহিরপুর শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নারী শিক্ষিকাকে হয়রানির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

১৪/০৫/২০২৬ ১১:৫৭:৩৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুলেমান মিয়ার বিরুদ্ধে এক সহকারী শিক্ষিকাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুপ্রস্তাব ও অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় শিক্ষক সমাজ ও সুধীমহলে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী বালিজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা লুৎফা আক্তার সম্প্রতি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষা কর্মকর্তা সুলেমান মিয়া দীর্ঘদিন ধরে হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে ওই শিক্ষিকাকে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন। কুপ্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় তিনি প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠেন এবং সম্প্রতি 'প্রাক-প্রাথমিক ফোর প্লাস' প্রশিক্ষণে ওই শিক্ষিকার নাম নিয়মবহির্ভূতভাবে বাতিল করেন। অভিযোগ উঠেছে, বালিজুরী বিদ্যালয়ের পরিবর্তে অন্য বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকাকে ভুয়া পরিচয়ে ওই প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়েছে, যা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসি আক্তারও নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক জানান, সুলেমান মিয়া রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রায়ই শিক্ষকদের সাথে অসদাচরণ করেন।

অভিযুক্ত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সুলেমান মিয়া তাঁর বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে, তাঁকে মানহানি করার জন্য এসব অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। তবে সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহনলাল দাস জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগটি তদন্ত করে সত্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে দ্রুত প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক বলেন, "বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে; তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।" সাধারণ শিক্ষকরা কর্মক্ষেত্রে নারী শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার দাবি করেছেন।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad