সহায়তা তালিকায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ
দেখার হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাহাকার
সুনামগঞ্জের দেখার হাওর সংলগ্ন খলায় সাত একর জমির বোরো ধান শুকানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছিলেন কৃষক আব্দুল্লাহ মুকিত। কিন্তু ভারী বর্ষণ আর জলাবদ্ধতায় তাঁর পাঁচ একর জমির স্বপ্নই এখন পানির নিচে। বড় পরিবার আর সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালানোর একমাত্র অবলম্বন এই কৃষি জমি হারিয়ে তিনি এখন দিশেহারা। মুকিতের মতো অনেক প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের আক্ষেপ, সহায়তার জন্য সরকারি তালিকা তৈরি হলেও এখনো তাঁদের কাছে পৌঁছায়নি কেউ। উল্টো অভিযোগ উঠেছে, যারা চাষাবাদ করে না, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাদের নামই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে।
জানা গেছে, হাওরাঞ্চলে জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ২০ কেজি চাল এবং ক্ষয়ক্ষতির ধরন অনুযায়ী তিন ক্যাটাগরিতে (৭,৫০০, ৫,০০০ ও ২,৫০০ টাকা) আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলায় প্রাথমিকভাবে ৯৮ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের একটি তালিকা করা হলেও তাতে ব্যাপক স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। দেখার হাওরের কৃষক শফিক মিয়া অভিযোগ করেন, নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকাদেরই কেবল জাতীয় পরিচয়পত্র নেওয়া হচ্ছে, ফলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা বাদ পড়ার সংশয়ে আছেন।
লক্ষণশ্রী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন তালুকদার জানান, অত্যন্ত অল্প সময়ে তালিকা করতে গিয়ে কিছু ভুলত্রুটি হয়ে থাকতে পারে। বর্তমানে প্রতি ইউনিয়নে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে তালিকা পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। শাল্লা উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যান ছত্তার মিয়ার মতে, ক্যাটাগরিভিত্তিক আর্থিক সহায়তার ফলে দলীয় নেতারা নিজেদের লোকজনকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেখিয়ে বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন, যা ঠেকাতে ২৯ সদস্যের বিশাল যাচাই-বাছাই কমিটি করা হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মতিউর রহমান জানিয়েছেন, তালিকা তৈরির কাজ চলমান এবং চূড়ান্ত করার আগে প্রতিটি নাম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হবে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তালিকা তৈরিতে কোনো দলীয় পরিচয় বা দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া যাবে না। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা যাতে সরকারি এই সহায়তা পান, তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগকে সরেজমিনে গিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: