অসহ্য দাবদাহের পর মৌলভীবাজারে স্বস্তির বৃষ্টি

অসহ্য দাবদাহের পর মৌলভীবাজারে স্বস্তির বৃষ্টি

নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

০২/০৬/২০২৬ ২১:৫৯:৫৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

দিনভর আগুনের মতো ঝলসানো রোদ আর বুকফাটা ভ্যাপসা গরমে চাতক পাখির মতো ছটফট করছিল মৌলভীবাজারের প্রকৃতি। প্রাণহীন, ওষ্ঠাগত জনজীবনে ঘরে-বাইরে কোথাও যেন এক ফোঁটা শান্তির অবকাশ ছিল না। অবশেষে সব প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ রাত ৯টার পর প্রকৃতির বুকে নেমে এলো সেই কাঙ্ক্ষিত শীতল পরশ—কাঙ্ক্ষিত মেঘভাঙা বৃষ্টি।


দিনের তাপমাত্রা ছিল অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বমুখী। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাতাসে আর্দ্রতার ভারী চাদর পুরো শহরকে এক গুমোট বন্দিশালায় পরিণত করে রেখেছিল। মেঘহীন আকাশে বৃষ্টির কোনো আগাম পূর্বাভাস ছিল না, ছিল না কোনো মেঘের ঘনঘটা। কিন্তু রাত ৯টা পার হতেই হুট করে যেন নিয়তির মতোই আকাশ জুড়ে নামল ঝুম বৃষ্টি।


তবে প্রকৃতির এই শীতল রূপের সাথে মিশে ছিল এক প্রলয়ঙ্কারী রুদ্ররূপ। কোনো রকম মেঘের গর্জন ছাড়াই আচমকা বৃষ্টির সাথে শুরু হয় একের পর এক বিকট ও অস্বাভাবিক বজ্রপাত। মুহুর্মুহু বজ্রপাতে পুরো মৌলভীবাজার যেন কেঁপে উঠছিল বারবার, যা ঘরের কোণে থাকা সাধারণ মানুষের মনে কিছুটা আতঙ্কের শিহরণও জাগিয়ে তোলে।


হুট করে ধেয়ে আসা এই বজ্রবৃষ্টির কারণে রাতে বাজারে থাকা ও ঘরে ফেরা ঘরমুখী মানুষ কিছুটা বিপাকে পড়েছেন ঠিকই, কিন্তু দিনভরের তীব্র তাপদাহের পর এই বৃষ্টি যেন প্রকৃতির এক আশীর্বাদ। রুদ্র বজ্রের ভয়কে জয় করে মৌলভীবাজারবাসী এখন পরম তৃপ্তিতে বুক ভরে নিচ্ছেন রাতের এই শীতল হাওয়া। বৃষ্টির প্রতিটা ফোঁটা যেন ধুয়ে দিয়ে যাচ্ছে বিগত কয়েকদিনের ক্লান্তি আর অবর্ণনীয় কষ্ট।

তাহির আহমদ

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad