দোয়ারাবাজারে ২ হাজার ঘনফুট অবৈধ পাথর জব্দ

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

দোয়ারাবাজারে ২ হাজার ঘনফুট অবৈধ পাথর জব্দ

নিজস্ব প্রতিনিধি, দোয়ারাবাজার

০৭/০৬/২০২৬ ০৮:১১:১৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের বাঁশতলা হকনগর শহীদ স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় এক ঝটিকা ও সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে প্রায় ২ হাজার ঘনফুট অবৈধ সরকারি পাথর জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। গতকাল শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দোয়ারাবাজার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাশেদুল ইসলামের সরাসরি নেতৃত্বে এই বিশেষ মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়।

স্থানীয় সংশ্লিষ্ট ও ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চোরাকারবারি চক্র সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পাথর এনে মজুত করছে— এমন গোপন ও সুনির্দিষ্ট সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল সন্ধ্যায় উপজেলার ঝুমগাঁও গ্রামের ওমান প্রবাসী চেরাগ আলীর মালিকানাধীন একটি বড় বাউন্ডারির (সীমানা প্রাচীর) অভ্যন্তরে আকস্মিক অভিযান চালায় টাস্কফোর্স। ওই বিশেষ অভিযানে প্রবাসী চেরাগ আলীর বাউন্ডারির ভেতরে মজুত করে রাখা পাথরের স্বপক্ষে কোনো বৈধ লাইসেন্স বা রয়্যালটি পরিশোধের কাগজপত্র দেখাতে না পারায় সেখানে মজুত করে রাখা আনুমানিক ২ হাজার ঘনফুট মূলবান পাথর সম্পূর্ণ অবৈধ ঘোষণা করে রাষ্ট্রীয় হেফাজতে জব্দ করা হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে দোয়ারাবাজার থানার এএসআই আব্দুল ওদুদসহ পুলিশের একটি চৌকস দল, স্থানীয় ১ নং বাংলাবাজার ইউপি সদস্য আল আমিন এবং উপজেলা ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্ট নায়েব ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত থেকে প্রশাসনকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন।

অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদুল ইসলাম চুন, পাথর ও খনিজ সম্পদ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করে জানান, “সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত ও পরিবেশ বিনষ্টকারী উপায়ে সীমান্ত এলাকায় পাথর মজুত ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে এই বিশেষ টাস্কফোর্স অভিযান চালানো হয়েছে; জব্দকৃত ২ হাজার ঘনফুট পাথরের বিষয়ে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দোয়ারাবাজারের জনস্বার্থে, সীমান্ত চোরাচালান রোধে এবং প্রকৃতির ভারসাম্য ও পরিবেশ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের এই ধরনের আকস্মিক অভিযান নিয়মিতভাবে ও কঠোরতার সাথে অব্যাহত থাকবে।”

এদিকে প্রশাসনের এই সাঁড়াশি অভিযানের পর জব্দকৃত বিশাল পরিমাণ পাথরের শতভাগ বৈধ মালিকানা দাবি করে প্রবাসী চেরাগ আলীর পরিবারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমের কাছে এক লিখিত বিবৃতি দেওয়া হয়েছে; পরিবারের সদস্যদের দাবি, তারা কোনো ধরনের অবৈধ সীমান্ত ব্যবসা বা পাথর কালোবাজারির সাথে মোটেও জড়িত নন। চেরাগ আলীর স্বজনরা আরও দাবি করেছেন যে, তাদের নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের ব্যক্তিগত ঢালাই ও রাজকাজের প্রয়োজনে তারা বিভিন্ন চালানের মাধ্যমে বৈধ উপায়ে এই পাথরগুলো ক্রয় করেছিলেন এবং সম্পূর্ণ নিজেদের ব্যক্তিগত ব্যবহারের প্রয়োজনেই বাউন্ডারির ভেতরে স্তূপ করে সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন, যা ভুল বোঝাবুঝির কারণে প্রশাসন জব্দ করেছে।

মাসুদ রানা সোহাগ/এআর

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad