নেইমারকে বিশ্বকাপের দলে নেওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল আনচেলত্তি
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমারের আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেওয়ার পর মুখ খুলেছেন দলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
২০২৬ বিশ্বকাপের দলে নেইমারকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন এই ইতালীয় কোচ।
তার শারীরিক প্রস্তুতি নিয়ে কিছুটা হতাশা থাকলেও, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য এই অভিজ্ঞ তারকার উপস্থিতি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল বলে তিনি মনে করেন।
নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে হেরে বিদায় নেওয়ার পরই ৩৪ বছর বয়সী নেইমার তার ১৬ বছরের দীর্ঘ ও উজ্জ্বল আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানেন।
বিশ্বকাপ থেকে দ্রুত বিদায় নেওয়া সত্ত্বেও সাবেক বার্সেলোনা তারকাকে উত্তর আমেরিকার এই আসরের দলে রাখা একদম সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল বলে দাবি করেন আনচেলত্তি। ইএসপিএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেইমারের শারীরিক সমস্যা এবং মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলেন আনচেলত্তি।
বাছুরের চোটের কারণে গ্রুপ পর্বে মরক্কো ও হাইতির বিপক্ষে প্রথম দুটি ম্যাচে খেলতে পারেননি নেইমার। আনচেলত্তি বলেন, ‘আমি মনে করি মাঠের খেলায় যেভাবে প্রত্যাশা করা হয়েছিল, সে (নেইমার) সেভাবে অবদান রাখতে পারেনি, কারণ তা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না।
তবে দলের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি এবং মানসিকতা অত্যন্ত ইতিবাচক ছিল। তার প্রতি আমার গভীর স্নেহ রয়েছে। তার ইতিবাচক আচরণ ও সহযোগিতার জন্য আমি তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। ২৬ জনের চূড়ান্ত দলে তাকে রাখাটা একেবারেই সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল।’
দলের পেছনে নেইমারের নেতৃত্ব ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করলেও, বিশ্বকাপের আগের সময়টায় তার শারীরিক প্রস্তুতি নিয়ে নিজের কিছুটা অসন্তোষ গোপন করেননি এই ইতালীয় কোচ। তিনি আরও যোগ করেন, ‘একটি বিষয়ই আমাকে হতাশ করেছে, তা হলো এই টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি পর্বে সে নিজেকে আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করতে পারতো। চতুর্থ ম্যাচের পরিবর্তে প্রথম ম্যাচ থেকেই সে তৈরি থাকতে পারতো। সেটিই ছিল একমাত্র হতাশাজনক দিক।’
নিজের সবচেয়ে মূল চালিকাশক্তি ১০ নম্বর জার্সিধারীকে ছাড়া এখন ২০৩০ বিশ্বকাপের কথা ভেবে দল ঢেলে সাজানোর দিকে নজর দিচ্ছেন আনচেলত্তি। ব্রাজিলীয় ফুটবলের এই পরিবর্তনের হাওয়া নির্দেশ করে যে, ২০১০-এর দশকের তারকাদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এবার নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের ওপর ভরসা রাখা হবে।
সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ কোচ বলেন, ‘নেইমারের সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সম্মান জানিয়ে বলতে চাই, ইতিহাসের প্রতিটি ধাপে এক প্রজন্মের সমাপ্তি ঘটে এবং নতুন আরেক প্রজন্মের আগমন ঘটে। নতুন এই প্রজন্মকে আগেরটির চেয়েও আরও ভালো হতে হবে।
রত্না বাউরী
মন্তব্য করুন: