সুনামগঞ্জে ‘নাগরিক তথ্য অধিকার ফোরামের আত্মপ্রকাশ
সুনামগঞ্জে সরকারি-বেসরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘নাগরিক তথ্য অধিকার ফোরাম’-এর আত্মপ্রকাশ হয়েছে। এ উপলক্ষে ৩৫ সদস্যবিশিষ্ট জেলা কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) শহরের মুক্তিযোদ্ধা শহীদ জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। সভায় উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে ৩৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ জেলা কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়।
গঠিত কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মো. মুজাহিদুল ইসলাম মজনু এবং সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুল হক মিলন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মো. মাইনুদ্দীন ও মহসিন আলম। সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন ইজাজুল হক চৌধুরী নাছিম, জিয়াউর রহমান ও আকিফুজ্জামান রিপন। আইন ও অধিকার (আরটিআই) বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট আইন উদ্দিন ও এডভোকেট দীপঙ্কর, অর্থ সম্পাদক আকিব জাবেদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোশফিকুর রহমান স্বপন ও আফজাল হোসেন এবং দপ্তর সম্পাদক মতিউর রহমান।
এ ছাড়া সহ-সভাপতি হিসেবে প্রভাষক দুলাল মিয়া, শাহ কামাল, ওবায়দুল মুন্সী ও ফারুক আহমদসহ গবেষণা, প্রশিক্ষণ, পরিবেশ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং কার্যনির্বাহী সদস্যদের নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়।
কবি ও লেখক সুখেন্দু সেনের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুল হক মিলনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সাংস্কৃতিক ও সমাজকর্মী মনসুর আলম তালুকদার, মুক্তিযোদ্ধা শহীদ জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক এডভোকেট খলিল রহমান এবং হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি মো. রাজু আহমেদ।
সভায় বক্তারা বলেন, তথ্য পাওয়া কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়; এটি নাগরিকের আইনি ও মৌলিক অধিকার। তথ্য অধিকার আইনের কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব। তারা জানান, জেলার প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চলসহ সর্বস্তরের মানুষের কাছে তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি, তথ্যপ্রাপ্তিতে সহায়তা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে সংগঠনটি নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে।
মতবিনিময় সভায় জেলার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত থেকে নবগঠিত কমিটিকে শুভেচ্ছা জানান এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রীতম দাস / আর আর
মন্তব্য করুন: