জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ
সুনামগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই নেতার আদালতে আত্মসমর্পণ
সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নানের এপিএস ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাসনাত হোসেন এবং জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজুকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর আজ বুধবার (১০ জুন) পৃথক দুটি আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে সংশ্লিষ্ট বিচারকরা তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, হাসনাত হোসেন সুনামগঞ্জের দ্রুত বিচার আদালতের বিচারক নুরুল হকের আদালতে এবং রেজাউল করিম রিজু জগন্নাথপুর আমল গ্রহণকারী আদালতের বিচারক মো. এমদাদ হোসেনের আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।
হাসনাত হোসেনের পক্ষে অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম এবং রেজাউল করিম রিজুর পক্ষে অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম জামিন শুনানি করেন।
এদিকে দুই নেতার পৃথক জামিন শুনানিতে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের নেতৃবৃন্দসহ আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা অংশ নেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা তাদের জামিনের তীব্র বিরোধিতা করেন।
উল্লেখ্য ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সুনামগঞ্জ পৌর শহরে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে জহুর আলী নামের এক যুবক আহত হন। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২ সেপ্টেম্বর তার বড় ভাই হাফিজ আহমদ (দোয়ারাবাজার উপজেলার এরোয়াখাই গ্রামের বাসিন্দা) বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান, সাবেক তিন সংসদ সদস্য ও তিন পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৯৯ জনকে আসামি করা এই মামলায় হাসনাত হোসেনকেও আসামি করা হয়েছিল।
অপরদিকে, গত বছরের ১৯ নভেম্বর জগন্নাথপুরের মিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুর, চুরি ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী এমএ মান্নান ও রেজাউল করিম রিজুসহ ৪৯ জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়। মিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুন নূর বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছিলেন।
দুই মামলার শুনানিতে উভয়পক্ষের যুক্তি তর্ক শেষে আদালত আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
লতিফুর রহমান রাজু / ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: