গোয়াইনঘাটের চার এলাকায় অবাধে বালু চলছে উত্তোলন

সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি প্রশাসন

গোয়াইনঘাটের চার এলাকায় অবাধে বালু চলছে উত্তোলন

নিজস্ব প্রতিনিধি, গোয়াইনঘাট

১২/০৬/২০২৬ ১৮:৩৮:০৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের অন্যতম পর্যটনসমৃদ্ধ এলাকা গোয়াইনঘাট উপজেলার পরিবেশ ও প্রকৃতি এখন প্রভাবশালী বালু সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের এক প্রকার নীরবতার সুযোগে দিন-রাত সমানতালে উপজেলার মাতুরতল, সোনারহাট, বাদেশ্বর ও পান্থুমাই এলাকায় পাল্লা দিয়ে চলছে অবাধে বালু উত্তোলন। আইনের তোয়াক্কা না করে বছরের পর বছর ধরে চলা পরিবেশবিধ্বংসী এই মহোৎসবের কারণে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য খ্যাত গোয়াইনঘাটের পরিবেশ এখন মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন।


স্থানীয় ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শত শত ড্রেজার, নৌকা, ট্রাক ও ট্রাক্টরে করে এই চার এলাকার বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন ও পরিবহন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ভারতের সীমান্তবর্তী ও দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র পান্থুমাই ঝরনা সংলগ্ন এলাকা থেকেও নির্বিচারে বালু তোলায় পর্যটন সম্ভাবনা ধুলোয় মিশে যাচ্ছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বুক ফুলিয়ে এই অবৈধ কার্যক্রম চললেও উপজেলা প্রশাসন কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো দৃশ্যমান বা কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। উল্টো প্রশাসনের এমন রহস্যজনক নীরবতা দেখে মনে হচ্ছে, গোটা প্রশাসনই যেন বালু খেকোদের সিন্ডিকেটের কাছে পুরোপুরি জিম্মি।


এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগ, যত্রতত্র ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হচ্ছে এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের কবলে পড়ে ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বহু কৃষিজমি, গাছপালা ও গ্রামীণ রাস্তাঘাট। এছাড়া বালুবাহী ভারী ট্রাক ও ট্রাক্টর চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়কগুলো ভেঙে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে, যার মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ সাধারণ জনগণকে। ড্রেজারের বিকট শব্দ এবং ধুলোবালির কারণে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্যও এখন চরম সংকটে।


এলাকার ভুক্তভোগী মানুষ জানান, সিন্ডিকেটের সদস্যরা অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারণ মানুষ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না। মাঝেমধ্যে লোকদেখানো দু-একটি অভিযান হলেও মূল হোতারা সব সময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। ফলে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।


এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারীর সরকারি সেল ফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেন নি। 


গোয়াইনঘাটের সচেতন মহল ও পরিবেশবাদীরা অবিলম্বে এই বিপর্যয় রোধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলছেন, দ্রুত সুনির্দিষ্ট তদন্ত সাপেক্ষে এই অবৈধ বালু সিন্ডিকেটের মূল উপাটন করা না গেলে গোয়াইনঘাটের প্রাকৃতিক মানচিত্র চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে। অবিলম্বে এই মহোৎসব বন্ধে এবং প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন: