ওসমানীনগরে এবার ‘বৈধ’ জিরার চালান ছাড়ল পুলিশ

ওসমানীনগরে এবার ‘বৈধ’ জিরার চালান ছাড়ল পুলিশ

নিজস্ব প্রতিনিধি, ওসমানীনগর

১২/০৬/২০২৬ ২১:৩৫:৪৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের ওসমানীনগরে ১ কোটি ১২ লাখ টাকার একটি বড় চোরাচালান জব্দের মাস খানেকের মাথায় আবারও ট্রাকভর্তি জিরার একটি বড় চালান আটক করেছে পুলিশ। তবে আগেরটি অবৈধ হলেও এবারের চালানের বৈধ কাগজপত্র মেলায় তা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার গোয়ালাবাজার গয়নাঘাট নামক স্থান থেকে চালানটি আটক করা হয়েছিল।


পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে জিরার চালানটি আটকের পর জৈন্তাপুর উপজেলার রিয়াজ আহমদ নামের এক ব্যক্তি থানায় এসে মালামালের মালিকানা ও আমদানির বৈধ কাগজপত্র দেখান। রাতভর যাচাই-বাছাই শেষে কাগজপত্র সঠিক পাওয়ায় শুক্রবার (১২ জুন) সকালে জিরাসহ ট্রাকটি ছেড়ে দেওয়া হয়।


ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরশেদুল আলম ভুঁইয়া বলেন, "বৃহস্পতিবার রাতের জিরার চালানের বৈধ কাগজপত্র পাওয়ায় সেটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে অবৈধ চোরাচালানের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"


এর আগে গত ৫ মে উপজেলার ব্রাহ্মণগ্রামে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি থেকে ১ কোটি ১২ লাখ ১৫ হাজার টাকা মূল্যের ৬০৩ বস্তা অবৈধ ভারতীয় জিরা উদ্ধার করেছিল পুলিশ। ওই ঘটনায় আবুল কালাম আজাদ নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। কালাম ও তাঁর ভাই আব্দুল মুমিনসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে মামলাও করে।


কালামকে আদালতে হাজির করে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও চোরাচালানের মূল হোতাদের ব্যাপারে তেমন কোনো তথ্য পায়নি পুলিশ।


স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সীমান্ত গলিয়ে আসা এই চোরাচালান সিন্ডিকেটের নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম পুলিশ জানলেও রহস্যজনক কারণে মামলায় তাদের আসামি করা হয়নি। বিশেষ করে জৈন্তাপুর উপজেলার মোহন মিয়া নামের এক ব্যক্তির নাম জোরেশোরে আলোচনায় রয়েছে। বর্তমানে তিনি ওসমানীনগর থানা সংলগ্ন এলাকায় বসবাস করে এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।


তবে চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে মোহন মিয়া বলেন, "৫ আগস্টের পর আমি এই ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে এখন বালুর ব্যবসা করছি।"


একের পর এক জিরার চালান আটক এবং নেপথ্যের হোতারা আড়ালে থেকে যাওয়ায় এলাকায় চোরাচালান দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন: