এনবিআরের রাজস্ব আদায়ে নতুন রেকর্ড
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই ২০২৫ থেকে মে ২০২৬) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ৩ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় করেছে, যা একই সময়ের মধ্যে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। তবে রেকর্ড পরিমাণ আদায় সত্ত্বেও সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি সংস্থাটি। নির্ধারিত লক্ষ্যের তুলনায় এ সময়ে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৮১ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা।
রোববার রাতে এনবিআর প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে রাজস্ব আদায়ের সর্বশেষ চিত্র তুলে ধরা হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে **৩ লাখ ৬০ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই আদায়ের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রাজস্ব আদায় বেড়েছে ৩২ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা, যা প্রবৃদ্ধির হিসাবে ১০ শতাংশেরও বেশি।
খাতভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, কাস্টমস অনুবিভাগে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭.০৮ শতাং ভ্যাট অনুবিভাগে ১০.০৫ শতাংশ এবং আয়কর অনুবিভাগে ১২.৫৪ শতাংশ।
এনবিআর জানায়, চলতি অর্থবছরে তাদের মোট সংশোধিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রথম ১১ মাসে আদায়ের লক্ষ্য ছিল **৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৪ কোটি টাকা। কিন্তু বাস্তব আদায় দাঁড়িয়েছে তার চেয়ে **৮১ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা কম, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৮.৪২ শতাংশ ঘাটতি নির্দেশ করে।
অন্যদিকে, জুন মাসের প্রথম ২০ দিনেই রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৯ হাজার ৩১১ কোটি টাকা। এর ফলে ২০ জুন পর্যন্ত মোট রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা, যা আগের পুরো অর্থবছরের মোট আদায় **৩ লাখ ৭০ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা কেও ছাড়িয়ে গেছে।
এনবিআরের আশা, জুনের শেষ ১০ দিনে আরও ২৫ হাজার কোটি টাকা। আদায় করা সম্ভব হলে চলতি অর্থবছর শেষে মোট রাজস্ব আদায় ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা**তে পৌঁছাবে। সে ক্ষেত্রে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা থেকে ঘাটতি থাকলেও, আগের অর্থবছরের তুলনায় অতিরিক্ত ৪৩ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হবে।
রাজস্ব আহরণের গতি বাড়াতে ইতোমধ্যে আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস—এই তিন অনুবিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে পৃথক তিনটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিআর। সংস্থাটির ভাষ্য, আপিল, ট্রাইব্যুনাল, হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা, কর ফাঁকি শনাক্ত করে রাজস্ব পুনরুদ্ধার, অডিট মামলা নিষ্পত্তি, উৎসে কর ও মূসক আদায়ের তদারকি, পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট জোরদার এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ করদাতাদের আয়কর-ভ্যাট অডিট একসঙ্গে পরিচালনার মতো উদ্যোগের ফলে রাজস্ব কার্যক্রমে গতি এসেছে।
সজল আহমেদ
মন্তব্য করুন: