আমি মাঠ ছাড়লেই নামবে নেইমার

আমি মাঠ ছাড়লেই নামবে নেইমার

প্রথম ডেস্ক

২৭/০৬/২০২৬ ২৩:৩৬:১৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

ফুটবল পাগল দেশ ব্রাজিলে প্রতিটি শিশুই স্বপ্ন দেখে বিখ্যাত হলুদ জার্সি গায়ে বিশ্বকাপ খেলার। কিন্তু সেই স্বপ্ন যে মাত্র ১৯ বছর বয়সেই সত্যি হয়ে ধরা দেবে, তা হয়তো ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি রায়ান। ভাস্কো দা গামার একাডেমি থেকে উঠে আসা এক অখ্যাত কিশোর থেকে আজ তিনি বিশ্বমঞ্চে সেলেসাওদের অন্যতম ভরসা। রূপকথার মতো এই উত্থান যেন কোনো সিনেমার গল্পকেও হার মানায়।


সম্প্রতি ব্রাজিল দলের টিম হোটেলে সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের এই রোমাঞ্চকর যাত্রা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন বোর্নমাউথের এই তরুণ স্ট্রাইকার। খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে শানিত করার পেছনে কোচ ফার্নান্দো দিনিজ এবং আন্দোনি ইরাওলার দারুণ প্রভাব রয়েছে বলে জানান তিনি। সেই সঙ্গে বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলত্তির দেওয়া সাহস ও অনুপ্রেরণা যে তাকে মানসিকভাবে কতটা শক্তিশালী করেছে, সেটিও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন রায়ান।


বয়স মাত্র ১৯ হলেও এরই মধ্যে ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে নিজের নাম লিখিয়ে ফেলেছেন তিনি। পেলে, এদু, হুলিনহো, কৌতিনহো এবং রোনালদো নাজারিওর মতো কিংবদন্তিদের পর রায়ান হচ্ছেন ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপে মাঠে নামা ষষ্ঠ সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার।


বিশ্বকাপে তার এই সুযোগটি আসে মূলত রাফিনিয়ার আকস্মিক ইনজুরির কারণে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে শুরুর একাদশেই সুযোগ পান তিনি। ৮২ মিনিট পর্যন্ত মাঠে থেকে নিজের জাত তো চিনিয়েছেনই, পাশাপাশি সতীর্থকে দিয়ে একটি দুর্দান্ত গোলও (অ্যাসিস্ট) করিয়েছেন। তবে দলে জায়গা পাকাপোক্ত করা যে মোটেও সহজ কাজ নয়, সেটি বেশ ভালোভাবেই জানেন রায়ান।


ইনজুরি কাটিয়ে নেইমারের ফেরা এবং দলে এনড্রিকের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দলে জায়গা পাওয়ার লড়াইটা ভীষণ চ্যালেঞ্জিং। আমি মাঠ থেকে উঠলেই সেখানে নেইমার কিংবা এনড্রিকের মতো তারকারা নামবে। এখানে প্রতিদিনের অনুশীলনে কে কেমন করছে, তার ওপর ভিত্তি করেই কোচ চূড়ান্ত একাদশ নির্বাচন করেন।’


এত অল্প বয়সে বিশ্বকাপের মতো বিশাল এক মঞ্চে খেলার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগে ভাসেন এই তরুণ। তিনি জানান, মাঠে যখন ওয়ার্ম-আপ করছিলেন, তখন বারবার তার ফেলে আসা কঠিন দিনগুলোর কথা মনে পড়ছিল। ভাস্কো দা গামা ক্লাব থেকে বিশ্বমঞ্চ পর্যন্ত আসার পথটা মোটেও মসৃণ ছিল না। চরম প্রতিকূলতা ও অমানুষিক পরিশ্রম পার করে তিনি আজকের এই অবস্থানে পৌঁছেছেন।


রায়ানের মতে, তার এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো অনুশীলনে নিজের সেরাটা দেওয়া। কোচ আনচেলত্তি অনুশীলনের ব্যাপারে খুবই কঠোর। আর সেই কঠিন ক্যাম্পগুলোতে নিজের শতভাগ উজার করে দিয়েছিলেন বলেই কোচ তার ওপর আস্থা রেখেছেন এবং সুযোগ পাওয়া মাত্রই তিনি সেটি কাজে লাগিয়েছেন।


ডি আর ডি

মন্তব্য করুন: