শুভ জন্ম তারিখ : ছান্দসিক কবি আবদুল কাদির
Led Bottom Ad

শুভ জন্ম তারিখ : ছান্দসিক কবি আবদুল কাদির

প্রথম ডেস্ক

০১/০৬/২০২৫ ১১:৫৮:০০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

ছান্দসিক কবি আবদুল কাদিরের আজ জন্মতারিখ। তিনি ১৯০৬ সালের ১ জুন বর্তমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার আড়াইসিধা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছান্দসিক কবির শুভ জন্মবার্ষিকীকে আমাদের অতল শ্রদ্ধা ও ফুলেল শুভেচ্ছা। তিনি অতি শৈশবে তিনি মাতৃহারা হন। ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পাঁচটি বিষয়ে লেটারসহ ম্যাট্রিক পাস করেন। ১৯২৫ এ তিনি ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ থেকে আইএসসি পাস করেন। অতঃপর তিনি বি.এ. পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৮৪ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 


কবি আবদুল কাদির তিনটি কারণে বাংলা সাহিত্যে অমর হয়ে থাকবেন : তাঁর খাঁটি কবিসত্তা, বাংলা ছন্দের উপর অসাধারণ পান্ডিত্য ও সাহিত্য-সম্পাদনার ক্ষেত্রে অনন্যতা। মাত্র দুটি কাব্যগ্রন্থ দিলরুবা ও উত্তর বসন্ত বাংলা ভাষায় তাঁকে স্থায়ী আসন এনে দেয়। তাঁর কবিতা পাঠ করে রবীন্দ্রনাথ পর্যন্ত তাঁর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। ছিলেন বিখ্যাত মাহে নও পত্রিকার সম্পাদক। অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে সম্পাদনা করেছেন নজরুল রচনাবলি, যা এ দেশে নজরুল সাহিত্য সুপ্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করেছে। এ ছাড়া সম্পাদনা করেছেন রোকেয়া রচনাবলি, শিরাজী রচনাবলি ও কাজী ইমদাদুল হক রচনাবলি, যার সাহিত্যিক ও ঐতিহাসিক মূল্য অপরিসীম। সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ পেয়েছেন একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পদক (১৯৮৩)। কিন্তু যে-কারণে তিনি সর্বজন নমস্য, সেটি তাঁর শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকর্ম ছন্দ-সমীক্ষণ (১৯৭৯)।


বাংলা ছন্দ শাস্ত্রে আবদুল কাদিরের শ্রেষ্ঠত্ব হলো, তিনিই সর্বপ্রথম বাংলা ছন্দকে আধুনিক ও স্থায়ী নামে প্রতিষ্ঠিত করেন। প্রবোধচন্দ্র সেনের স্নেহধন্য ছন্দগবেষক আবদুল কাদির বাংলা ভাষার প্রাচীন ও নতুন ছন্দের পুস্তকসমূহ অধ্যয়ন করে বাংলা ছন্দের নতুন গ্রহণযোগ্য নামকরণে সক্ষম হন। বাংলা ভাষার মূল তিনটি ছন্দের নাম নিয়ে ছান্দসিকদের মধ্যে ছিল প্রচুর মতভেদ। অক্ষরবৃত্তকে রবীন্দ্রনাথ বলতেন সাধুরীতির পয়ার-জাতীয় ছন্দ; সত্যেন্দ্রনাথ বলতেন, গাঙ্গিনীতরণ পদ্ধতি; মোহিতলাল মজুমদার বলতেন, সাধুভাষার পাদ-ভূমক ছন্দ; প্রবোধচন্দ্র সেন বলতেন, বিশিষ্ট কলামাত্রিক বা মিশ্রকলাবৃত্ত। মাত্রাবৃত্তকে রবীন্দ্রনাথ বলতেন, ব্রজবুলি-ভাঙা তিন মাত্রার ছন্দ; সত্যেন্দ্রনাথ বলতেন, গঙ্গা-যমুনা পদ্ধতি; মোহিতলাল মজুমদার বলতেন, সাধুভাষার গীতিচ্ছন্দ বা পর্বভূমক ছন্দ; প্রবোধচন্দ্র সেন বলতেন, যথার্থ কলামাত্রিক বা সরল কলাবৃত্ত। স্বরবৃত্তকে রবীন্দ্রনাথ বলতেন, বাংলার প্রাকৃত ছন্দ বা ছড়ার ছন্দ; সত্যেন্দ্রনাথ বলতেন, ঝরনা-ঝামর পদ্ধতি; মোহিতলাল মজুমদার বলতেন, প্রাকৃত ভাষার পর্বভূমক ছন্দ; প্রবোধচন্দ্র সেন বলতেন, বিশিষ্ট দলবৃত্ত বা দলমাত্রিক। আবদুল কাদির এ প্রেক্ষাপটে বলেন, ‘আমি এ সকল পরিভাষা-ভেদ পরিহার করে, অক্ষরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত ও স্বরবৃত্ত, এই তিন সহজবোধ্য ও সর্বত্রচলিত নামই গ্রহণ করেছি। কেননা, আমার ধারণা যে, অন্যথা সাধারণ পাঠকেরা পরিভাষাগত জটিলতা ও বিভ্রান্তির আবর্তে পড়ে হতচকিত হতে পারেন।’ সেই থেকে বাংলা ভাষার প্রধান তিন ছন্দের সর্বজনস্বীকৃত নাম হয়ে গেল : অক্ষরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত ও স্বরবৃত্ত ছন্দ।


সজল আহমদ

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad
Led Bottom Ad