সিলেটে ওসমানী মেডিকেলে চিকিৎসকের ওপর হামলা

ইন্টার্নদের কর্মবিরতি ও শাটডাউন

সিলেটে ওসমানী মেডিকেলে চিকিৎসকের ওপর হামলা

প্রথম ডেস্ক

০৮/০৭/২০২৬ ১৩:০১:১৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসক, মেডিকেল শিক্ষার্থী ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে হাসপাতালে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য একাডেমিক শাটডাউন (ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন) ঘোষণা করেছেন।

গতকাল মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিবাগত রাত পৌনে ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও এর সম্মুখে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আহতদের মধ্যে ইন্টার্ন চিকিৎসক তাসপিয়ানুল হক ও রেজা নিলয় এবং নগরের বালুচর এলাকার আবরার হোসেন ও জাহিদ রয়েছেন। আহত অপর দুজন হলেন, মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী এবং রোগীর আরেক স্বজন। তাঁদের সবাইকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ১২টার দিকে এক শিশু রোগীকে নিয়ে কয়েকজন স্বজন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন। এ সময় সেখানে কর্তব্যরত এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

মেডিকেল শিক্ষার্থীদের দাবি, রোগীর স্বজনরা বাইরে থেকে আরও লোকজন ডেকে এনে ওই ইন্টার্ন চিকিৎসককে মারধর করেন। খবর পেয়ে অন্য ইন্টার্ন ও শিক্ষার্থীরা এগিয়ে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে জরুরি বিভাগে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আহত দুই ইন্টার্ন চিকিৎসকের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর এবং অন্যজনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসক রাকিন হান্নান। অন্যদিকে, আহত রোগীর তিন স্বজনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বর্তমানে হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মাইনুল জাকির বলেন, “পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

এদিকে, ঘটনার পর রাত আড়াইটার দিকে পৃথক বিবৃতিতে হাসপাতালটির ইন্টার্ন ডক্টরস ফোরাম এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা বলেন, হামলায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত তাঁরা সব ধরনের চিকিৎসাসেবা থেকে কর্মবিরতি পালন করবেন। একই দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অনির্দিষ্টকালের একাডেমিক শাটডাউন ঘোষণা করে অবিলম্বে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।

আর আর

মন্তব্য করুন: