হবিগঞ্জে নারী খুনের পর পুরুষশূন্য গ্রামে দেদারসে লুটপাট ও চুরি
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কাকাইলছেও ইউনিয়নের দুর্গম মাহতাবপুর গ্রামে প্রায় প্রতি রাতেই চুরি ও লুটপাটের তাণ্ডব চলছে। সম্প্রতি গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক নারী নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামটি পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। আর এই সুযোগে সক্রিয় হয়ে উঠেছে অপরাধী চক্র। চোর ও দুর্বৃত্তদের উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন গ্রামের অবশিষ্ট বাসিন্দারা। সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক বসতঘরের চাল ও বেড়া ছাড়া ভেতরের সবকিছুই লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ মে মাহতাবপুর গ্রামে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন। সংঘর্ষের পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিলকিস বেগম (৩০) নামের এক নারী মারা যান। এই হত্যাকাণ্ডের পর আজমিরীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের হলে গ্রেপ্তার আতঙ্কে পুরুষরা গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যান। বিশেষ করে মামলার আসামি হওয়া আপন তিন ভাই মবিন মিয়া, মুছা মিয়া ও মোতাহার মিয়ার বাড়িঘর সম্পূর্ণ তছনছ করা হয়েছে। মবিন মিয়ার দালানবাড়ির গ্রিল ও লোহার গেট পর্যন্ত ভেঙে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বর্তমানে এসব বাড়িতে কেবল নারীরা আছেন, আবার কোনো কোনো বাড়ি পুরোপুরি জনমানবহীন।
সংঘর্ষের পর থেকে গ্রামে চুরির ঘটনা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। ভুক্তভোগী শাহাবুদ্দিন মিয়া জানান, চোরেরা তাঁর গোয়ালঘরের তালা ভেঙে প্রায় দেড় লাখ টাকা মূল্যের দুটি গাভী চুরি করে নিয়ে গেছে। একই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আক্কাস মিয়ার একটি ষাঁড় এবং গত ৬ জুন তাঁর মেয়ে দিলরুবার একটি গাভী চুরি হয়। এছাড়া ইতালিপ্রবাসী আলী মিয়ার তালাবদ্ধ ফাঁকা বাড়ি থেকে হাঁড়ি-পাতিল, দা এবং একটি সাইকেল চুরি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
মাহতাবপুর গ্রামটি উপজেলার একটি অত্যন্ত দুর্গম এলাকা। বর্ষা মৌসুমে এখানে নৌকা বা অন্য কোনো যানবাহন সহজে চলে না। কোথাও কাদা, কোথাও হাঁটু পানি আবার কোথাও উঁচু-নিচু মাটির রাস্তা হওয়ার কারণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে তাৎক্ষণিক সেখানে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। ভৌগোলিক এই দুর্গমতার পুরো সুযোগ নিচ্ছে চোরেরা। গ্রামে কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, পূর্বশত্রুতার জেরে বিবদমান পক্ষগুলোই এই চুরির সাথে জড়িত। আবার অনেকের ধারণা, গ্রাম পুরুষশূন্য থাকার সুযোগ নিয়ে তৃতীয় কোনো অপরাধী চক্র এই লুটপাট চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে মাহতাবপুর গ্রামের ইউপি সদস্য নজু মিয়া চৌধুরী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “সাবেক মেম্বার আক্কাস মিয়া, তাঁর মেয়ে এবং শাহাবুদ্দিন মিয়ার বেশ কয়েকটি গরু চুরি হয়েছে বলে আমি শুনেছি।”
অন্যদিকে, আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর হোসেন জানান, “আমরা চুরির বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা খবর পাইনি। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আর আর
মন্তব্য করুন: