হবিগঞ্জে পাহাড়ি ঢলে সাতছড়ির ‘বড় পুকুর’ ক্ষতিগ্রস্ত, সংস্কারের দাবি
সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের অভ্যন্তরীণ একমাত্র প্রধান জলাধার ‘বড় পুকুর’ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যপ্রাণীর পানির চাহিদা পূরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলাধারটি দ্রুত সংস্কার ও পুনরুদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবেশকর্মী ও প্রকৃতি পর্যবেক্ষকেরা।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক দশক আগে বনের অভ্যন্তরে বন্যপ্রাণীদের শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট দূর করতে এই জলাধারটি খনন করা হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি বনের জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষায় এবং বন্যপ্রাণীদের নিরাপদ পানির প্রধান উৎস হয়ে ওঠে। বিশেষ করে খরা ও শুষ্ক মৌসুমে বনের বিভিন্ন পশু-পাখি এই পুকুরের পানির ওপর নির্ভরশীল।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার ও চিকিৎসক এস এস আল আমিন সুমনের একটি পোস্টের মাধ্যমে জলাধারটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। এরপরই এটি দ্রুত পুনর্গঠনের দাবি জোরালো হয়। স্থানীয়রা জানান, বনের ভেতর যেকোনো ধরনের সংস্কার কাজের জন্য বন বিভাগের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ও অর্থায়নের প্রয়োজন। তাই দ্রুত সরেজমিন পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ১০ অক্টোবর প্রায় ২৪৩ হেক্টর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত রঘুনন্দন হিল রিজার্ভ ফরেস্টের অংশ এই বনাঞ্চলকে সরকারিভাবে ‘সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান’ ঘোষণা করা হয়। উদ্যানটিতে প্রায় ২০০ প্রজাতির উদ্ভিদ এবং অন্তত ১৯৭ প্রজাতির বন্যপ্রাণী রয়েছে; যার মধ্যে ২৪ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ, ৬ প্রজাতির উভচর এবং প্রায় ২০০ প্রজাতির পাখি রয়েছে। এই বিশাল প্রাণবৈচিত্র্যের সুরক্ষায় বনের ভেতরের জলাধারটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
আর আর
মন্তব্য করুন: