ভোটের মাঠে প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ
স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হচ্ছে সিলেট থেকে
বন্যা ও বর্ষা মৌসুমের রেশ কাটতে না কাটতেই সিলেট অঞ্চলে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী অক্টোবর মাস থেকে শুরু হতে যাওয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের মাধ্যমেই দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকারের ভোট উৎসব। আর এই নির্বাচনী মহাযজ্ঞের সূচনা হতে যাচ্ছে আধ্যাত্মিক নগরী সিলেট থেকে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, আগস্টের মাঝামাঝি সময়েই ইউপি নির্বাচনের প্রথম ধাপের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। আর নির্বাচন সিলেট থেকে শুরু হওয়ার এমন খবরে অববাহিকার চার জেলায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মাঠের প্রার্থীরা ইতিমধ্যেই পুরোদমে প্রস্তুতি শুরু করেছেন; কেউ প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশ করছেন, আবার কেউ নীরবে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। রাজনৈতিকভাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের কেউ কেউ স্বতন্ত্র কিংবা ভিন্ন কৌশলে এই নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন বলে এলাকায় জোর গুঞ্জন রয়েছে।
আইনত এবারের ইউপি নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া অর্থাৎ নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, মাঠের লড়াইয়ে রাজনৈতিক দলের ছায়া ও অভ্যন্তরীণ প্রভাব কোনোভাবেই এড়ানো যাচ্ছে না। ফলে সিলেট বিভাগের চারটি জেলাতেই প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও প্রার্থী জট এখন বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেটের অধিকাংশ আসনে জয় পেয়ে ফুরফুরে মেজাজে থাকা বিএনপি চাইছে স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনেও জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে। তবে দলের ভেতর প্রকাশ্য ও প্রচ্ছন্ন গ্রুপিং—যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রায়শই দৃশ্যমান হচ্ছে—নেতাকর্মীদের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দলের ভেতরে অন্তঃকোন্দল দূর করে একক প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া না গেলে নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে, সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা জামায়াতে ইসলামীও স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনে বড় জয়ের মিশন নিয়ে মাঠে নামছে। তবে তারাও তৃণমূলের গ্রুপিং ও অভ্যন্তরীণ সমীকরণের বাইরে নয়। বিএনপি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠের প্রার্থীদের নিয়ে কোনো সবুজ সংকেত না দিলেও, জামায়াত ও এনসিপিসহ (ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি) বেশ কিছু দল অনানুষ্ঠানিকভাবে তাদের সমর্থিত একক বা সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম তৃণমূল পর্যায়ে জানান দিতে শুরু করেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্দলীয় মোড়কে ভোট হলেও তৃণমূলের এই নির্বাচন দলগুলোর জন্য এক বিশাল অগ্নিপরীক্ষা। গ্রুপিং ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল সামাল দিয়ে ভোটের মাঠের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা এবং নিজের পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করে আনা দলগুলোর স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: