আওয়ামী লীগের মতোই বিএনপির ভাইয়েরা আমার বিরুদ্ধে ন্যারেটিভ দাঁড় করাচ্ছেন
জুলাইযোদ্ধা ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাফসিন মেহনাজ আজিরিন বলেছেন, তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তিনি বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগের সময় যেভাবে বিরুদ্ধে ‘ন্যারেটিভ’ তৈরি করা হয়েছিল, এখন একই ধরনের প্রচারণা বিএনপির কিছু ভাইয়েরা চালাচ্ছেন।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা এক ভিডিওবার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।
নাফসিন মেহনাজ আজিরিন বলেন, ‘ভেবেছিলাম এই বিষয়টি নিয়ে আর কথা বলব না। কিন্তু যখন দেখলাম আওয়ামী লীগের মতো করেই বিএনপির ভাইয়েরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ন্যারেটিভ ও প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন, তখন মনে হলো বিষয়টি পরিষ্কার করা প্রয়োজন। আমার কিছু শুভাকাঙ্ক্ষী আছেন, যারা আমাকে নতুনভাবে চেনেন। তারা যেন এসব প্রচারণা বিশ্বাস করে আমাকে ভুল না বোঝেন।’
তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে। একটি হলো, তিনি পাকিস্তানের পতাকা হাতে ছবি তুলেছেন, তাই তিনি পাকিস্তানি বা বিহারি। অন্যটি হলো, তিনি নিয়মিত পাকিস্তান হাইকমিশনে যাতায়াত করেন এবং পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সঙ্গে কক্সবাজারে গিয়েছিলেন। এ দুটি অভিযোগই তিনি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
আজিরিন বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের পতাকা হাতে ছবি তুলেছিলাম, কারণ আমি বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছি। আমার পাশে থাকা একজন পাকিস্তানি শিক্ষার্থী পাকিস্তানের পতাকা ধরেছিলেন, কারণ তিনি পাকিস্তানের নাগরিক।
আর পাকিস্তান হাইকমিশনারের সঙ্গে কক্সবাজারে যাওয়ার যে অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে, সেটিও আমার বিরুদ্ধে নয়। অন্য একজনকে ঘিরে এমন অভিযোগ উঠেছিল। সেই ব্যক্তি আমি নই।’
তিনি দাবি করেন, এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে অতীতে আওয়ামী লীগের সময়ও তাকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল। এখন একই ধরনের প্রচারণা আবারও তার বিরুদ্ধে চালানো হচ্ছে।
জুলাই গণ অভ্যুত্থানের পরের রমজানে তিনি নিজ উদ্যোগে দরিদ্র মানুষের মধ্যে ইফতার বিতরণ করতেন এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ইফতার করতেন। সে সময় বাংলাদেশে অধ্যয়নরত কয়েকজন পাকিস্তানি শিক্ষার্থী তাকে যোগাযোগ করে বিহারি সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ইফতার বিতরণের একটি উদ্যোগে সহযোগিতা করতে বলেন।
নাফসিন বলেন, ‘আমি নিজের সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে ইফতার বিতরণ করতাম। তাদের উদ্যোগেও অংশ নিয়েছিলাম। ইফতার বিতরণ শেষে পাকিস্তানি শিক্ষার্থীরা নিজেদের পতাকা নিয়ে ছবি তুলছিল। তখন আমি বলি, আমি বাংলাদেশের পতাকা নিয়েই ছবি তুলব। পরে একজন পাকিস্তানি শিক্ষার্থী বাংলাদেশের পতাকা এনে দিলে আমি সেটি হাতে নিয়ে ছবি তুলি।’
তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের গণহত্যা ও নির্যাতনের ইতিহাস আমি জানি এবং তা আমাকে কষ্ট দেয়। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশে পড়াশোনা করতে আসা পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের সেই ঘটনার জন্য দায়ী করা যায় না। তারা এখানে পড়তে এসেছে এবং বাংলাদেশকে সম্মান করে।’
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রসঙ্গ টেনে নাফসিন বলেন, ভারতের মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় বাংলাদেশে অনেকেই প্রতিবাদ করেন। কিন্তু বাংলাদেশে বসবাসরত বিহারিদের সঙ্গে ইফতার বিতরণকে ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি করাকে তিনি দ্বৈত মানদণ্ড হিসেবে দেখছেন।
ওই উদ্যোগের কারণে পরবর্তীতে তাকে পাকিস্তানের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেখানে তিনি বাংলাদেশের সংস্কৃতি এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ অভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। পাকিস্তানি অংশগ্রহণকারীরাও নিজেদের সংস্কৃতি উপস্থাপন করেন।
এ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ক্ষোভ আমি বুঝি। কিন্তু আওয়ামী লীগের মিথ্যা ন্যারেটিভ ধার করে যদি বিএনপির ভাইয়েরা একটি নারীকে রাজনৈতিকভাবে বা ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেন, তাহলে সেটি লজ্জাজনক।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার পলিটিক্যাল স্টেটমেন্ট বা অবস্থান যদি রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পারেন, তাহলে আমাকে নিয়ে যতই স্লাট শেমিং, ক্যারেক্টার অ্যাসাসিনেশন বা সাইবার বুলিং করা হোক, তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আপনারা যদি গুন্ডামি, চাঁদাবাজি বা দুর্নীতি করেন, আমি একজন নাগরিক হিসেবে সেটার সমালোচনা করব। যে রাজনৈতিক দলই ভুল করুক, তাদের ভুল তুলে ধরা আমার দায়িত্ব।
রত্না বাউরী
মন্তব্য করুন: