হবিগঞ্জে সহপাঠীদের কান্না
‘রেজাল্ট এসেছে, কিন্তু রেজা তো নেই’
এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের ঠিক আগের দিনই না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছে হবিগঞ্জের বাহুবলের মেধাবী শিক্ষার্থী কাজী রেজা। পরদিন ঘোষিত ফলে দেখা যায়, সে জিপিএ ৪.১১ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—নিজের কষ্টার্জিত এই সাফল্যের খবর আর দেখে যেতে পারল না রেজা।
রেজা বাহুবল উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের চক্রামপুর গ্রামের কাজী বাড়ির কাজী আলফু মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় সানশাইন মডেল হাইস্কুল থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয় রেজা। প্রথমে পরিবার বিষয়টি সাধারণ অসুস্থতা মনে করলেও খুব দ্রুত তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রেজার এমন আকস্মিক প্রস্থানে পরিবারে নেমে আসে অমানিশার অন্ধকার। এর মধ্যেই সোমবার প্রকাশিত হয় এসএসসি পরীক্ষার ফল। ফলাফলে দেখা যায়, রেজা জিপিএ ৪.১১ পেয়েছে। যে সাফল্য ঘিরে পরিবার, শিক্ষক ও বন্ধুদের মাঝে আনন্দের জোয়ার ভাসার কথা ছিল, তা-ই এখন রূপ নিয়েছে কান্না আর স্মৃতির তীব্র যন্ত্রণায়।
রেজার অকালমৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে শেষবারের মতো তাকে দেখতে বাড়িতে ভিড় জমান সহপাঠী, শিক্ষক, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী। চারদিকের কান্না আর নিস্তব্ধতায় পুরো চক্রামপুর গ্রাম ভারী হয়ে ওঠে। চোখের জল ধরে রাখতে না পেরে এক সহপাঠী কেঁদে কেঁদে বলে, “আমাদের কষ্টের রেজাল্ট এসেছে, কিন্তু যাকে ঘিরে এই আনন্দ করার কথা ছিল, সেই রেজাই তো আর নেই—এ কষ্ট আমরা মেনে নিতে পারছি না।”
পরিবার জানায়, রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় নিজ বাড়িতে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল নামে। পরে কান্নাভেজা চোখে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
ডিডি/ নীরব
মন্তব্য করুন: