কোম্পানীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রক্ষায় মন্ত্রণালয়ে আবেদন

জনবল সংকটে বন্ধ প্যাথলজি, এক্স-রে

কোম্পানীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রক্ষায় মন্ত্রণালয়ে আবেদন

সোহেল রানা, কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি

১০/০৮/২০২৬ ১৬:২৩:১৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চরম জনবল সংকট দূর, অচল চিকিৎসা সরঞ্জাম সচল ও পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা চালুর দাবিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে এই আবেদনপত্র জমা দেন কোম্পানীগঞ্জের বাসিন্দা ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ফয়জুর রহমান।

আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি স্থানীয় প্রায় দুই লাখ মানুষের একমাত্র সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র। প্রতিদিন এখানে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ রোগী সেবা নিতে আসেন। ২০১৯ সালে হাসপাতালটিকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও প্রয়োজনীয় জনবল, কারিগরি দক্ষতা ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম আজও চালু করা সম্ভব হয়নি।

উপজেলার চিকিৎসা ব্যবস্থার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে আবেদনে বলা হয়, প্রায় ১০ বছর ধরে হাসপাতালের এক্স-রে সেবা পুরোপুরি বন্ধ। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট না থাকায় প্রায় দেড় বছর ধরে অচল হয়ে আছে প্যাথলজি ল্যাব। ফলে এক্স-রে ও ল্যাবের মূল্যবান যন্ত্রপাতি অযত্নে পড়ে থেকে নষ্ট হতে বসেছে। এ ছাড়া হাসপাতালে কোনো আল্ট্রাসনোগ্রাম সুবিধা নেই এবং একমাত্র ইসিজি মেশিনটিও দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর।

আবেদনে আরও জানানো হয়, চিকিৎসক, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ফার্মাসিস্ট, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, রেডিওলজিস্ট, ওয়ার্ডবয় ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পদেই তীব্র জনবল সংকট রয়েছে। স্বল্পসংখ্যক কর্মী দিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগীকে সামলাতে গিয়ে প্রতিদিন হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ রোগীদের।

এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হচ্ছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্বিক অবস্থা সরেজমিন পরিদর্শন। শূন্য পদে দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ। দীর্ঘদিনের বন্ধ থাকা প্যাথলজি ও এক্স-রে সেবা সচল করা। অচল ইসিজি ও আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন দ্রুত মেরামত অথবা নতুন যন্ত্রপাতি ও অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ ও ৫০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে অনুমোদিত সব সুবিধা কার্যকর করা এবং বিদ্যমান অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া।

আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করে মোহাম্মদ ফয়জুর রহমান বলেন, "দীর্ঘদিনের জনবল সংকট ও সরঞ্জামের অচলাবস্থার কারণে এলাকার সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দুই লাখ মানুষের চিকিৎসার স্বার্থে হাসপাতালটিতে দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও অচল যন্ত্রপাতি সচল করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।"

নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad