সিলেটজুড়ে তীব্র লোডশেডিং চরম ভোগান্তিতে জনজীবন
সিলেট নগরী থেকে শুরু করে বিভাগের প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত দিন-রাতজুড়ে তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। নগরে ঘণ্টার ব্যবধানে বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করলেও, গ্রাম ও উপজেলা পর্যায়ে দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না।
চরম জনদুর্ভোগ প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক ঘুম ও দৈনন্দিন কাজ, পাম্প চালাতে না পারায় দেখা দিচ্ছে পানির সংক।
বিদ্যুৎনির্ভর শিল্পকারখানা, দোকানপাট ও অনলাইন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জেনারেটর ও আইপিএস ব্যবহারে ব্যবসায়ীদের পরিচালন ব্যয় বাড়ছে। এছাড়া ভোল্টেজের ওঠানামায় নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে দামি বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি।
লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে সিলেট সদর উপজেলার খাদিমপাড়া ও নগরীর টুকেরবাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সিলেট অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন জানান, বর্তমানে সিলেট বিভাগে বিদ্যুতের চাহিদা ২৫২ মেগাওয়াট, যার বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে ২০৭ মেগাওয়াট। মূলত জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি ও কয়লা সংকটের কারণে (যেমন- আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরবরাহ কমে যাওয়া) এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রকাশ করে তিনি গ্রাহকদের ধৈর্য ধারণের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হওয়ার (যেমন- এসি ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে চালানো) আহ্বান জানান।
রত্না বাউরী
মন্তব্য করুন: