তীব্র তাপদাহে সিলেটে বিদ্যুতের বিড়ম্বনা: জনভোগান্তি চরমে

তীব্র তাপদাহে সিলেটে বিদ্যুতের বিড়ম্বনা: জনভোগান্তি চরমে

তাহির আহমদ

১১/০৮/২০২৬ ১৭:১২:৫৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

তীব্র তাপদাহ ও ভ্যাপসা গরমে জনজীবন যখন ওষ্ঠাগত, ঠিক তখনই বিদ্যুৎহীনতায় সিলেট অঞ্চলে দেখা দিয়েছে চরম বিপর্যয়। একদিকে সুর্যের উত্তাপ, অন্যদিকে ঘন ঘন লোডশেডিং—এ দুইয়ে মিলে দিন-রাতে ঘরবন্দী মানুষের দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। মহানগর ছাড়িয়ে গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। বিদ্যুতের দাবিতে ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা এখন সড়ক অবরোধের পথ বেছে নিচ্ছেন।

সিলেট মহানগরের বাসিন্দারা জানান, দিনে-রাতে অন্তত সাত থেকে আটবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অনেক এলাকায় ৮ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকছে না। গ্রামীণ এলাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ; সেখানে একটানা তিন-চার ঘণ্টাও মিলছে না বিদ্যুৎ। প্রচণ্ড গরমে শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ঘরে অবস্থান করা যেমন কঠিন হয়ে পড়েছে, তেমনি পানির পাম্প চালাতে না পেরে নগরের বাসাবাড়িতে দেখা দিয়েছে তীব্র পানির সংকট। শুধু তা-ই নয়, হাসপাতালগুলোতে জরুরী চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে।

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে ইতিমধ্যে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয়রা। রবিবার ও সোমবার রাতে সিলেট সদরের টুকেরবাজার, খাদিমনগর, বলাউরা এবং সুনামগঞ্জের জাউয়া বাজার এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। জেলার পাশাপাশি মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া গেছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অত্যন্ত কম থাকায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। সিলেটে দৈনিক মোট চাহিদা প্রায় ৪৭৭ মেগাওয়াট হলেও জাতীয় গ্রিড থেকে মিলছে মাত্র ১৪০ থেকে ১৫০ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি থাকছে ৩-শত মেগাওয়াটেরও বেশি।

পিডিবি’র তথ্য অনুযায়ী, সিলেট অঞ্চলে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ থেকে ৫৬ মেগাওয়াট পর্যন্ত ঘাটতি থাকছে। গত মঙ্গলবার ২৬৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ২১৭ মেগাওয়াট।

নগরের আখালিয়া এলাকার বাসিন্দা সেলিম মিয়া বলেন, "রাত ১২টার পরও বিদ্যুৎ থাকে না। গরমে একটু ঘুমানোর উপায় নেই।"

একই দুর্ভোগের কথা জানান গৃহিণী ফরিদা রহমান, "একদিকে তীব্র গরম, তার ওপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং। পানি তোলার মোটর চালানো যাচ্ছে না। জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।"

ভোগান্তির পাশাপাশি প্রভাব পড়েছে ব্যবসাতেও। জেনারেটর চালাতে গিয়ে বাড়ছে পরিচালন ব্যয়। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেট শাখার মহাসচিব আব্দুর রহমান রিপন বলেন, "বিকেল থেকে রাত আটটা ব্যবসার মূল সময়, অথচ তখনই বিদ্যুৎ থাকে না। বাধ্য হয়ে জেনারেটর চালাতে গিয়ে খরচ দ্বিগুণ হচ্ছে।"

বিদ্যুৎ সংকটের কারণ হিসেবে জাতীয় গ্রিড থেকে অপর্যাপ্ত সরবরাহ, জ্বালানি সংকট ও স্থানীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটিকে দায়ী করছে পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড।

সিলেট পিডিবির প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন জানান, "গ্যাসের সরবরাহ বৃদ্ধি ও এলএনজি আমদানি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির পুরোপুরি উন্নতি সম্ভব নয়। তবে সিলেটের বন্ধ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো দ্রুত চালুর চেষ্টা চলছে।"

নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad