হবিগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে ভোগান্তি, মেজাজ হারালেন সেবাগ্রহীতা
হবিগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সেবা নিতে গিয়ে এক সেবাগ্রহীতার ক্ষোভ প্রকাশের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অফিসটির সেবার মান, সেবাগ্রহীদের ভোগান্তি এবং দালালনির্ভরতার অভিযোগ নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পাসপোর্ট-সংক্রান্ত সেবা নিতে আসা এক ব্যক্তি অফিসের ভেতরে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। একপর্যায়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। উপস্থিত লোকজনের কেউ কেউ ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
সেবাগ্রহীতার অভিযোগ, পাসপোর্ট অফিসে সেবা নিতে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা, বিভিন্ন ধাপে ঘোরাঘুরি এবং নানা জটিলতার কারণে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে বিড়ম্বনার কারণেই ওই সেবাগ্রহীতা ক্ষুব্ধ হয়ে মেজাজ হারান বলে জানা গেছে।
হবিগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সেবাব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সেবাগ্রহীদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের অভিযোগ, দালালের মাধ্যমে পাসপোর্টের কাজ করালে সহজে কাজ সম্পন্ন হলেও সরাসরি অফিসে গিয়ে সেবা নিতে চাইলে বিভিন্ন ধাপে হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
সেবাগ্রহীদের কয়েকজনের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত ফি দিয়ে নিয়ম মেনে আবেদন করার পরও বিভিন্ন কারণে তাদের একাধিকবার অফিসে যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটিই ব্যয় হয়। অন্যদিকে দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে কাজ করালে তুলনামূলক দ্রুত সেবা পাওয়া যায়—এমন অভিযোগও রয়েছে।
তবে দালালনির্ভরতা ও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে এ বিষয়ে তাদের অবস্থানও স্পষ্ট হবে।
সেবাগ্রহীতার ক্ষোভ প্রকাশের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর হবিগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সেবাব্যবস্থা নিয়ে নানা মন্তব্য করছেন অনেকে। অফিসকে দালালমুক্ত করে সাধারণ মানুষের জন্য সহজ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সচেতন মহলের মতে, সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে একজন নাগরিক যেন নির্ধারিত নিয়ম ও সরকারি ফি অনুযায়ী সরাসরি সেবা নিতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে সেবাগ্রহীদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে শুনে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
ভাইরাল ভিডিওতে ওই সেবাগ্রহীতার সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল এবং তার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য কী, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে হবিগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক মো. নূরুল হুদার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে সেবাগ্রহীদের অভিযোগ ও ভাইরাল ভিডিও ঘিরে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ এবং সেবার মান আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
রত্না বাউরী
মন্তব্য করুন: