ড. ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে

হাইকোর্টের রায়

ড. ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে

প্রথম ডেস্ক

১০/০৯/২০২৬ ১৮:২৩:৩৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর আদায়ের পথ খুলেছে হাইকোর্ট। এ অর্থ পরিশোধ করতে হবে প্রতিষ্ঠানটিকে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। একই সঙ্গে এ বিষয়ে জারি করা রুল খারিজ করে দেন আদালত।

আদালতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন ও ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষ পর্যন্ত গ্রামীণ কল্যাণের কাছে কর দাবি করে এনবিআর। এ দাবির বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে পৃথক দুটি রিট আবেদন করে গ্রামীণ কল্যাণ। প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেন।

এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গত ৪ অক্টোবর ড. ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দেওয়ার বিষয়ে দেওয়া একটি রায় হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিতভাবে প্রত্যাহার করে নেন। বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের বেঞ্চ ওই রায় প্রত্যাহারের পাশাপাশি মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠান। পরে মামলাটি নতুন বেঞ্চে পাঠানো হয়।

দীর্ঘ শুনানি শেষে নতুন বেঞ্চ আজ রিটের ওপর জারি করা রুল খারিজ করে দেন। ফলে আয়কর বাবদ গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে ৬৬৬ কোটি টাকা আদায়ে এনবিআরের আর কোনো আইনি বাধা থাকল না।

এনবিআরের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুস সামাদ আজাদ জানান, গ্রামীণ কল্যাণ ও গ্রামীণ টেলিকমের মধ্যে একটি চুক্তি ছিল। ওই চুক্তি অনুযায়ী, গ্রামীণ টেলিকম গ্রামীণ কল্যাণকে আর্থিক সহায়তা দেবে এবং এর প্রতিদান হিসেবে গ্রামীণ টেলিকম তার অর্জিত ডিভিডেন্ড থেকে ৪২ দশমিক ৫০ শতাংশ প্রফিট গ্রামীণ কল্যাণকে প্রদান করবে।

তিনি বলেন, আয়কর কর্তৃপক্ষ পরে আয়কর আইনের ১২০ ধারার অধীনে গ্রামীণ কল্যাণের ফাইল পুনরায় খোলার পর দেখতে পায়, গ্রামীণ টেলিকম থেকে গ্রামীণ কল্যাণ যে মুনাফা পেয়েছে, তার ওপর উৎসে কর কর্তন করা হয়নি। এ কারণেই বিষয়টি পুনর্মূল্যায়ন করা হয়।

পরবর্তীতে গ্রামীণ কল্যাণ কমিশনার অব ট্যাক্সেসের কাছে রিভিশন আবেদন করে। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করা হয়।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুস সামাদ আজাদ বলেন, দীর্ঘ শুনানি শেষে হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ আজ রায় দিয়েছেন এবং রুলটি খারিজ করেছেন। ফলে রায়টি এনবিআর তথা সরকারের পক্ষে গেছে।

তিনি আরও বলেন, রায়ের ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে আইন অনুযায়ী ৬৬৬ কোটি টাকা কর আদায় করতে পারবে ট্যাক্সেস ডিপার্টমেন্ট। এ জন্য যথাযথভাবে ডিমান্ড নোটিশও ইস্যু করা হবে।

নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad